০৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ২০:১৯
বেলা সাড়ে ১২টা। শহরতলীর বিমানবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হয়েছে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মনে স্বদেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে ব্রতচারী বিমান তালুকদার শুরু করলেন তার কার্যক্রম। প্রশিক্ষক শুরুতেই শিশুদের বলে দিয়েছেন তিনি যা করবেন সবাই সেটা অনুকরণ করবে।
মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রতচারী কার্যক্রমের শুরুতেই ‘জয় সোনার বাংলা’ বলে উপস্থিত সকলকে হাত তুলে অভিনন্দিত করে সকল শিশুরা। তারপর উপস্থিত অতিথিসহ সকলে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। দেশ, মা, মাটি, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অব্যাহত রাখতে শিশুদের খেলার ছলে বিভিন্ন পণ করান ব্রতচারী বিমান তালুকদার।
ভূমিপ্রেমের তিন উক্তি, পঞ্চব্রত অনুসরণ, ছোট ব্রতচারীর বারো পণ, ব্রতচারী ক্রমবৃদ্ধি কামনা, ছড়ার সাথে শরীরচর্চা, কোদাল চালাই, সারি নৃত্যের গান পরিবেশন করানো হয় শিশুদের দিয়ে। মূলত খেলার ছলে শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করে ব্রতচারী।
ব্রতচারী কার্যক্রম সহজভাবে শিশুদের কাছে উপস্থাপনের জন্য হাতের পাঁচ আঙ্গলের নাম ও আকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্রতচারীর ৫টি স্তম্ভ শিখানো হয়। ছড়ার আদলে ছোট ব্রতচারীদের ১২টি পণ উপভোগ করে শিশুরা।
ছোট ব্রতচারীদের ১২টি পণ হল- ছোটবো খেলবো হাসবো। সবাই ভালোবাসবো। গুরু জনকে মানবো। লিখবো পড়বো জানবো। জীবে দয়া দানবো। সত্য কথা বলবো। সত্য পথে চলবো। হাতে জিনিস গড়বো। শক্ত শরীর করবো। দলের হয়ে লড়বো। গায়ে খেটে বাঁচবো। আনন্দেতে নাচবো।
ব্রতচারী কার্যক্রমের বিভিন্ন পরিবেশনার সময় সহযোগী হিসেবে ছিলেন মেকদাদ মেঘ, অসীম সরকার, সম্পা তালুকদার, যুঁই পাল, চৈতি গোয়ালা, দীপা।
এই কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্রতচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্রতচারী বিমান তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মনে স্বদেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে প্রতিটি স্কুল-কলেজে ব্রতচারী কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবী। এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দিলে শিক্ষার্থিদের মধ্যে জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দের সাথে জীবন-যাপনের পথ তৈরি হবে। জাগ্রত হবে দেশপ্রেম।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭৩ সালের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেনÑ সমস্ত স্কুলে ব্রতচারী আন্দোলন চালু করে দেবেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫-এ তাঁকে হত্যার পর এই কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে নতুন প্রজন্মে ব্রতচারী সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই।’
শিশুদের সাথে ব্রতচারী কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশ ব্রতচারী সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সিলেট মহানগর পুলিশে উপকমিশনার (সদর) মো: কামরুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রাণা কুমার সিন্হা, দৈনিক যুগান্তর-এর সিলেট ব্যুারো প্রধান সংগ্রাম সিংহ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) এর সভাপতি দেশটিভি-র ব্যুরোপ্রধান বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, দৈনিক সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি আকাশ চৌধুরী, ডিবিসি-র ব্যুরো প্রধান প্রত্যুষ তালুকদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি তুষার কর, আবৃত্তিকার অম্বরীষ দত্ত, সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: ওবায়দুল্লাহ, সিলেট বিমান বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো: হাফিজ আহমেদ, সিলেট জেলা উদীচী সভাপতি, কবি, লেখক এ কে শেরাম, কবি ও গীতিকার এনায়েন হাসান মানিক, সম্মিলিত নাট্যপরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম সেলিম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, চিত্রশিল্পী মিজানুর রহমান মিলন, গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র চ্যানেল নাইন-এর ব্যুরো প্রধান দেবাশীষ দেবু, নৃত্যশৈলীর পরিচালক নীলাঞ্জনা যুঁই, নাট্যকর্মী, রকিবুল হাসান রুম্মন, বিমান বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা খানম সাথী, সহকারী শিক্ষিকা বাবলী রাণী ধর, সাহানারা বেগম, ফাল্গুনী দাস, শিপা আক্তার, হালিমা বেগম, গায়ত্রী রাণী দেব, ছড়াকার চন্দ্রশেখর দেব, সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার সুভাষ চন্দ্র চক্রবর্তী, নৃত্যশিক্ষক শাহজাদা নাহিয়ান চৌধুরী, কামরুল আহবাব টিপু, হাছন রাজার স্মৃতিসমৃদ্ধ যাদুঘরের মিউজিয়াম সহকারী জাহাঙ্গীর আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নিগাত সাদিয়া।
আপনার মন্তব্য