শাহ শরীফ উদ্দিন

০৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ০০:৩৩

নিজেদের গাড়ি রাখারই জায়গা নেই সিসিকের, যত্রতত্র পার্কিং

নগরীতে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সিলেটে নতুন ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নেরও কাজ চলছে। তবে নিজেদের গাড়ি পার্কিংয়েরই নিজস্ব কোনো জায়গা নেই সিটি করপোরেশনের।  নির্ধারিত কোন পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি রাখা হচ্ছে যত্রতত্র। খোলা জায়গায় গাড়িগুলো রাখার কারণে নষ্ট হতে চলেছে গাড়ির যন্ত্রপাতি। শুধু নষ্টই নয়, কোন কোন সময় এসব যন্ত্রপাতি হারিয়েও যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশনের পরিবহন বিভাগ।

সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কর্পোরেশনের জীপ, পিক-আপ, নগর উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের ট্রাক ও ট্রাক্টর, পানি সরবরাহ কাজে ব্যবহার্য ওয়াটার ভাউচার এক্সেবেটর, পে-লোডার, বীম লিফটার মিলে গাড়ির সংখ্যা প্রায় ১১০টি অধিক। কিন্তু এসব গাড়ির জন্য নিজস্ব কোন পার্কিং নেই। এ অবস্থায় আপাতত এসব গাড়ি নগরীর তোপখানা, সারদা হল, পীর হবীবুর রহমান পাঠাগার, নগর ভবনের সামনে, ভোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, সন্ধ্যাবাজার কারা কর্তৃপক্ষের জায়গায়, চাঁদনীঘাটে সুরমা নদীর তীরে রাখা হয়। যত্রতত্র এসব গাড়ি রাখার কারণে যেমন গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তেমনি ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরী।

বিশেষ করে চাঁদনিঘাটের আলী আমজদের ঘড়ি ঘর, নদীর পাড়সহ যত্রতত্র অনিয়ন্ত্রীত গাড়ি পার্কিং এর কারণে বিপাকে পড়ছেন ওই এলাকায় ঘুরতে যাওয়া নগরীর বাসিন্দারা।

সিসিক সুত্রে জানান যায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশনে সড়ক পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহারের জন্য ইতালি থেকে একটি গাড়ি আনা হয়েছে। যা এক দিনে ৪০ জন শ্রমিকের কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে কোন ডাস্টবিন থেকে ময়লা পরিষ্কার করাসহ সকল ধরণের ময়লা পরিষ্কার করা যায়। এই গাড়িটি বাংলাদেশের মধ্যে শুধু সিলেট সিটি কর্পোরেশনেই আছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব কোন পার্কিং না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই এটি রাখা হয়। এতে গাড়িটিতে মরিচা ধরার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব গাড়ি জন্য নিজস্ব পার্কিং থাকা খুবই জরুরী জানিয়ে সিসিক কর্মকর্তারা বলেন, সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি পরিষ্কার করার জন্য একটি ট্রাক ওয়াশার আনা হয়েছে। কিন্তু জায়গার সংকটের জন্য এটিও বসানো সম্ভব হচ্ছে না।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ, অতিরিক্ত দায়িত্বে যান্ত্রিক) রুহুল আলম বলেন, শুধু পার্কিং নয় সিটি কর্পোরেশনের পুরো পরিবহন বিভাগকে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ায় রাখতে নিজস্ব কিছু জায়গা প্রয়োজন। কারণ এখন নিজস্ব জায়গা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে বিভিন্ন জায়গায় গাড়িগুলো রাখা হচ্ছে। এতে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ও হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিজস্ব জায়গা হলে গাড়ি রাখা থেকে শুরু করে গাড়ির কারিগরী কাজ, পরিষ্কারকরণ কাজ, চালকদের বিশ্রামাগারসহ সব কিছু এক সাথে রাখা সম্ভব হবে। এতে সমন্বয় প্রক্রিয়া সহজ হবে।

পরিবহন শাখার জন্য কম পক্ষে দুই একর জায়গা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো পরিবহন শাখার জন্য আপাতত দুই একর জায়গা হলে চলবে। সিটি কর্পোরেশন থেকে মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি কোন জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন থেকেও জায়গা খোঁজ করা হচ্ছে। সরকারি কোন খাস জায়গা আছে কি না এটিও দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত