৩১ জুলাই, ২০১৫ ১৫:৩৩
দক্ষিণ সুরমা থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির প্রতিনিধি পরিচয়দানকারী এক যবককে আটক করেছে পুলিশ। সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে এনাম আহমদ নামের ওই যুবককে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। এসময় মাহতাব আহমদ নামের একটি অটোরিকশা চালককেও আটক করে পুলিশ।
তবে এনটিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান মঈনুল হক বুলবুল জানিয়েছেন, এনাম আহমদ নামে সিলেটে এনটিভির কোনো প্রতিনিধি নেই।
জানা যায়- বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হেতিমগঞ্জের নিজতফা গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক মাহতাব আহমদ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ৮টি নকল সার্টিফিকেট নিয়ে কিনব্রিজের কাছে আসেন। কিনব্রিজের কাছে এসে তিনি ফোন দেন বিশ্বনাথ উপজেলার লালটুকেরবাজার এলাকার মৃত আফছর আলীর ছেলে এনাম আহমদকে।
এনাম দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দলকে সাথে নিয়ে জাল সার্টিফিকেটসহ মাহতাবকে ধরিয়ে দেন।
থানা হাজতে থাকা মাহতাব সাংবাদিকদের জানায়- জাল সার্টিফিকেটগুলো তাকে তার এলাকার বেলায়েত হোসেন সবুজ দিয়ে বলেছে এনামের কাছে পৌঁছে দিতে। সবুজের কথামতো সে কিনব্রিজের কাছে এসে এনামকে ফোন দেয়। পরে এনাম পুলিশ নিয়ে এসে তাকে ধরিয়ে দেয়।
সূত্র জানিয়েছে- পূর্ব বিরোধের জের ধরে ফাঁদ পেতে জাল সার্টিফিকেটসহ সবুজকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল এনাম। কিন্তু সার্টিফিকেট নিয়ে সবুজ নিজে না আসায় তাকে আটক করাতে পারেনি। সার্টিফিকেট বাহক অটোরিকশা চালক মাহতাবকে শেষ পর্যন্ত ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে, মাহতাবকে আটকের পর এনাম নিজে যোগাযোগ করে মাহতাবের পরিবারের সাথে। মাহতাবের পরিবারের লোকজন তাকে ছাড়িয়ে নিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপনের শরণাপন্ন হন।
রাত ৯টার দিকে কাউন্সিলর লিপন এনামকে ফোনে খবর দিয়ে তার অফিসে নেন। এসময় আলাপ আলোচনার একপর্যায়ে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাহতাবের মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে সে। এছাড়া এনাম নিজেকে এনটিভি’র বিশ্বনাথ প্রতিনিধি বলেও দাবি করে। তার কাছে এনটিভি’র একটি পরিচয়পত্রও পাওয়া যায়।
এনামের আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় কাউন্সিলর লিপন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আতাউর রহমান ও এনটিভির সিলেটের ব্যুরো প্রধান মঈনুল হক বুলবুলের সাথে যোগাযোগ করেন জানতে পারেন তার সাংবাদিক পরিচয় ভূয়া। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে সে নিজের আখের গোছাতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে।
প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উপস্থিত জনতা মাহতাবকে উত্তম মধ্যম দেন। পরে দক্ষিণ সুরমা থানার এএসআই জিতেশ কুমার দাসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে মাহতাবকে থানায় নিয়ে যান।
আপনার মন্তব্য