মাহবুবুর রশিদ

৩১ জুলাই, ২০১৫ ২৩:১৮

স্মরণ : রাশেদীন ফয়সাল, কিছু স্মৃতি কিছু কথা

মানুষ মরণশীল, এটাই চিরন্তন সত্য। আজ কিংবা কাল হোক একদিন আমাদের সবাইকে পরপারে চলেই যেতে হবে-এটাই বিধাতার হাতের লেখন তবুও কিছু মৃত্যু মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। ক’দিন ধরে মনটা ভীষণ খারাপ যখনই শিশু রাজনের প্রহারের দৃশ্যটা মনে পড়ে আর সেই আর্থনাদ কানে আসে ‘আমি মরি যাইয়ার, কেউ আমারে বাঁচাওরেবা’ তখনই বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠে। একা একা ঢুকরে কাঁদি। ইদানিং মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল তরুণ সংবাদকর্মী রাশেদীন ফয়সাল এর মৃত্যু সংবাদ শুনে। মাত্র ২৫ বছরের টগবগে তরুণ। সাহিত্য, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বক্ষেত্রেই যার প্রাণ চাঞ্চল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। এক কথায় ফুল সবে ফুটতে শুরু করেছিল। কিন্তু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল এই তরুণের প্রাণ।

গত ১৩ জুলাই তার নিজ বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থেকে সিলেট শহরে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ২৫ জুলাই সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান রাশেদীন ফয়সাল। যে ফুল না ফুটিতেই ঝরে গেলো। স্বাভাবিক মৃত্যু সবারই কাম্য কিন্তু এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেননা তার স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা। অকালেই ফয়সালকে হারিয়ে যেন তারা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন।

রাশেদীন ফয়সাল। বয়সে আমার চেয়ে একটু বড় হলেও সম্পর্ক অনেকটা সমবয়সী বন্ধুর মতো। সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রাণখোলা এই লোকটির সাথে প্রথম পরিচয় ঘটে সিলেটে ৩ দিনের এক সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে। পরিচয়ের ঘনিষ্ঠ হয় গত বছর সিলেটের ওয়েব পোর্টাল সিলেট ভিউ ২৪ ডট কমের আয়োজনে লোভাছড়া ভ্রমণে । এরপর সিলেটে প্রায়ই দেখা-সাক্ষাৎ, ফেসবুকে নিয়মিত হাই হ্যালো ইত্যাদি। এই অল্প ক’দিনের পরিচয়ে রাশেদীন ফয়সাল নামটি আমার কাছে অনেক আপন হয়ে উঠেছিল। তার স্বভাবটাই ছিল সহজে মানুষকে আপন করে নেওয়া। লোভাছড়া ভ্রমণে আসার পূর্বে ফেসবুকে স্টেটাস দিয়েছিলেন ‘তো যাই হোক-আগামী শুক্রবার সকাল ৮টায় লোভাছড়ার উদ্দেশ্য যাত্রা করিব-ইনশাআল্লাহ’ আমি তার স্ট্যাটাসে কমেন্ট করছিলাম-ভাই আমাকে সাথে নিবেন কি? তিনি উত্তরে বলেছিলেন ‘আমনে (আপনি) শক্ত-সামর্থ্য দেইখ্যা দুইখান ময়ূরপঙ্খী সাজাইয়া রাইখেন! আইতাসি। সেদিন লোভাছড়া ভ্রমণে পুরো টিমকে মাতিয়ে রেখেছিল রাশেদীন ফয়সাল। নৌকার ছাদে বসে খিলখিলিয়ে হেসে বলছিলেন-মাহবুব ভাই আপনার ক্যামেরা দিয়া আমার একখান ফডো (ছবি) উঠান (তুলেন)। আজ সেই কথাগুলো খুবই মনে পড়ছে ফয়সাল ভাই। এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস হচ্ছেনা আপনি আমাদের মাঝে নেই। চোখে ভাসছে আপনার হাস্যজ্জল মুখ। জানি আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে তবে আপনার কর্মে আমাদের মাঝেই বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে।

পরিশেষে রাশেদীন ফয়সাল এর শোক সন্তপ্ত পরিবার আত্মীয় স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুক। 

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত