নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ আগস্ট, ২০১৫ ১০:৩১

শাহজালাল সার কারখানা : চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক উৎপাদন

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল সার কারখানার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ কারখানায় চলতি মাস থেকেই পরীক্ষামূলক উত্পাদন শুরুর কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণ উত্পাদন শুরুর আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, বর্তমানে কারখানাটির সৌন্দর্যবর্ধন ও লোক নিয়োগের কাজ চলছে। অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নিজস্ব বিদ্যুত্ প্লান্টও স্থাপন করা হয়েছে। এখন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হবে পরীক্ষামূলক উত্পাদন।

শাহজালাল সার কারখানার প্রকল্প পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। এ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পরীক্ষামূলক উত্পাদন শুরু হবে। বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা না দিলে সেপ্টেম্বরে পূর্ণ উত্পাদন শুরুর আশা করছি। পূর্ণ উত্পাদন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী সার কারখানাটি উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহজালাল সার কারখানা নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ‘শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি’ স্থাপনের জন্য ২০১২ বছরের শুরুতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ১৫০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। এর আগে চীন এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মাণাধীন শাহজালাল সার কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ঢাকায় একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনা সরকার এবং চীনের এক্সিম ব্যাংক প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ (৩ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা) ঋণ সহায়তা প্রদান করে। ঋণের বার্ষিক সুদের হার দুই শতাংশ ধরা হয়েছে। ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্প ব্যয়ের অবশিষ্ট ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিচ্ছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল সার কারখানাটি চীন ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত হলেও এর প্রযুক্তিগত কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জাপান, আমেরিকা এবং নেদারল্যান্ডস। সার কারখানাটি চালু হলে প্রতিদিন ১ হাজার ৭৬০ টন করে বছরে ইউরিয়া সার উত্পাদন হবে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টন। এছাড়া প্রতিদিন ১ হাজার টন হিসাবে বছরে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন অ্যামোনিয়া উত্পাদন হবে।

ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার অতিরিক্ত প্রধান ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথম বছরেই লক্ষ্যমাত্রার পুরোটা উত্পাদন সম্ভব হবে না। যেকোনো কারখানায়ই প্রথম অবস্থায় কিছু বিপত্তি দেখা দেয়। তাতে উত্পাদন ব্যাহত হয়। তবে দুই বছর পর থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উত্পাদন সম্ভব হবে।

শাহজালাল সার কারখানা সূত্রে জানা যায়, ৩৮ মাসব্যাপী প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে চলতি আগস্টে। এ মাসের মধ্যেই পূর্ণ উত্পাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণকাজে দেরি হওয়ার কারণে পিছিয়েছে উত্পাদন।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, হরতালসহ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্মাণকাজে কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি জানান, কারখানায় প্লান্ট রয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে অ্যামোনিয়া প্লান্ট ছাড়া বাকি সবগুলোই পরীক্ষামূলক উত্পাদন শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। অ্যামোনিয়া প্লান্টও এ সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। যমুনা সার কারখানা থেকে ৩০ টন সার এনে দানাদার সার তৈরির প্লান্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচারক জানান, কারখানাটি চালু হলে ৬ লাখ টন সার উত্পাদন সম্ভব হবে। ফলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশ থেকে সার আমদানির প্রয়োজন হবে না।

সার কারখানাটি নির্মাণে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুজ্জামান বলেন, এ অভিযোগ সত্য নয়। কারখানায় যে যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে, সেগুলো দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উত্পাদন সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত