০২ আগস্ট, ২০১৫ ১১:২৮
মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে সিলেটে সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি ও ধর্মঘট পালন করছে জেলা অটোরিক্সা (সিএনজি) শ্রমিক ইউনিয়ন।
রবিবার সকাল থেকেই সিলেটের সকল সড়ক-মহাসড়কের ৬ টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা। বন্ধ রয়েছে অটোরিকশা চলাচলও। বাইরে থেকে আসা অটোরিকশাকে নগরীতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না আন্দোলনকারীরা।
রোববার সকালে সিলেট-ঢাকা মহসড়কের তেতলি অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে বিক্খোভ সমাবেশ করে সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। এই সংগঠনের সভাপতি জাকারিয়া আহমদদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা, মহাসড়কে অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন নির্মান ও অটোরিকশা চলাচলের উপর নিশেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
দাবি পুরণ না হলে আগামীকাল থেকে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে আন্দোলনে নামার ঘােষণা দেন বক্তারা।
জাকারিয়া আহমদ বলেন, এতোদিন ধরে চলে আসা নিয়ম হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। এটা আমাদের উপার্জনের অবলম্বন।
তিনি জানান, আজ দুপুর ১২ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে বসবেন অটোরিকশা শ্রমিক নেতারা। ওই বৈঠকের পর পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে সমস্যার সমাধান না হলে আগামীকাল থেকে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুশিয়ারি দন তিনি
এদিকে, তেতলী ছাড়াও চন্ডিপুল, গোয়ালাবজারসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন অটোরিকশা শ্রমিকরা। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও শ্রমিকদের অবস্থানে এখন পর্যন্ত বাঁধা দেয় নি। উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা জানান, শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করলে বাধা দেওয়া হবে না।
ধর্মঘটে নগরীর ভেতরে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় দূর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। যানবাহনের অপেক্ষায় অনেক যাত্রীকে রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ঈদুল ফিতরের আগে-পরে সড়ক দূর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ২৩ জুলাই সচিবালয়ে এক পর্যালোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। সড়ককে নিরাপত্তা রাখতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ২৭ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। ১ আগষ্ট থেকে মন্ত্রীর ঘোষণাটি কার্যকর হয়।
আপনার মন্তব্য