শাকিলা ববি

০৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:৪৩

‘সৌন্দর্যবর্ধনে’ নগরীতে গাছ কাটছে সিটি করপোরেশন

নগরীর ইংরেজি মাধ্যম একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়কে সৌর্ন্দযবর্ধক বৃক্ষরোপণ করবেন, তাই কেটে ফেলা হয়েছে এই সড়কেই আগে রোপণ করা সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ। আর এই গাছগুলো কেটেছে খোদ সিলেট সিটি করপোরেশন।

সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর সুবিদবাজার সড়কের আলী সেন্টার পয়েন্ট থেকে সাগরদিঘিরপাড় পয়েন্টের সড়ক বিভাজকের শোভাবর্ধনকারী ২২টি উইপিং গাছ কেটে ফেলা হয়। মঙ্গলবার ওই এলাকায় গিয়ে গাছের মোথা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কেটে ফেলা গাছগুলো বছর পাঁচেক আগে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যেই লাগানো হয়েছিলো বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ওই কেটে ফেলা গাছের জায়গায় বৃহস্পতিবার নগরীর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দ নিকেতন'র শিক্ষার্থীরা রাধাচূড়া গাছ রোপণ করবেন। তাই সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মীরা আগের লাগানো গাছগুলো কেটে ফেলেছে।

এরআগে নগরীর রিকাবীবাজার থেকে মিরের ময়দান সড়কের বিভাজকে বৃক্ষরোপণ করে আনন্দনিকেতন'র শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার সকালেই সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর বৃক্ষমেলা প্রাঙ্গণে বৃক্ষভিক্ষা কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সিলেট নগরের গাছ বাঁচানোর জন্য সড়ক বিভাজক থেকে বিল বোর্ড অপসরণ করা হবে। মেয়রের এই ঘোষণার দিনই সড়ক বিভাজকের গাছ কেটে নেয় সিসিক কর্মীরা।

জানা যায়, আনন্দনিকেতন স্কুলের শিক্ষার্থীরা উদ্যোগে নিয়েছেন সুবিদবাজার সড়কের আলী সেন্টার পয়েন্ট থেকে সাগরদিঘিরপাড় পয়েন্টের সড়ক বিভাজকে সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগাবেন। এজন্য সিটি করপোরেশনের অনুমোদন চান আনন্দনিকেতন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তখন মেয়র নতুন গাছ লাগানোর জন্য পুরাতন গাছগুলো কাটার অনুমোদন দেন এবং সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মাধ্যমেই গাছ কাটার ব্যবস্থা করেন।

নাম প্রকাশ না করার সর্তে আনন্দনিকেতন স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অতীতেও আনন্দনিকেতন সড়ক বিভাজকে গাছ লাগিয়েছে। আবারো সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা ১২৫টি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এটা একটি ভালো উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালে শিক্ষার্থীরা গাছ লাগাতে আরও উৎসাহিত হবে।

এ ব্যাপারে আনন্দনিকেতন স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা সড়কের সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য রাধাচূড়া গাছ লাগাবে। এইজন্য আমার সিটি করপোরেশনের কাছে অনুমোদন চেয়েছি। আমরা কোনো গাছ কাটিনি। সিটি মেয়র নিজে গাছ কাটার অনুমোদন দিয়েছেন এবং সিটি করপোরেশনের কর্মীরা গাছ কেটেছে। এমনকি নতুন গাছ লাগানোর জন্য গর্তও করে দিয়েছে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।

এ ব্যাপারে পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশরাফুল কবির বলেন, সিটি করপোরেশনে গাছ কাটার অনুমোদন দিয়েছে এটা দুঃখজনক। মেয়র নিজে যেখানে গাছ বাঁচানোর কথা বলেন সেখানে তিনি গাছ কাটার অনুমতি কিভাবে দেন। গাছ লাগানোর বিষয়ে অবশ্যই পরিকল্পনা দরকার। এখন অনেকেই শোঅফ করার জন্য বৃক্ষরোপণ করেন কোনো পরিকল্পনা ছাড়া। এখন গাছ হত্যা করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে নতুন গাছ লাগিয়ে আনন্দনিকেতন স্কুল কর্তৃপক্ষ কতটুকু দায়িত্বশীলতার কাজ করছেন সেই প্রশ্নও থেকে যায়।

তিনি বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা গাছ লাগাতে উৎসাহিত হোক। পুরাতন গাছটার পাশে যেন শিক্ষার্থীরা আরেকটি নতুন গাছ লাগায়। এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশন ট্যাক্সেশন অফিসার মো. রমিজ মিয়া বলেন, এই জায়গার সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য মেয়র সাহেবের কাছ থেকে আনন্দনিকেতন স্কুল পক্ষ অনুমোদন নিয়েছেন। মেয়র জানেন এই বিষয়ে। আনন্দনিকেতনর কর্তৃপক্ষ নতুন গাছ লাগাবেন। গাছ কাটা ও নতুন গাছ লাগানো দুটো বিষয়েই মেয়র অবগত আছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, সড়ক বিভাজকের পুরাতন গাছ কেটে নতুন গাছ লাগানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাছাড়া সিলেট নগরে খালি জায়গা এবং খালি সড়ক বিভাজকের অভাব নেই। গাছ লাগাতে চাইলে খালি সড়ক বিভাজকে গাছ লাগাবেন। পুরাতন গাছ কেটে নতুন গাছ লাগানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মানে করি না।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মেয়র ঢাকায় একটি মিটিংয়ে আছেন বলে জানানো হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত