০৬ অক্টোবর, ২০১৫ ১৯:২৭
সিলেটের গোলাপগঞ্জের নালিউরি গ্রামে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির জায়গা দখলের ঘটনায় অভিযুক্ত 'রাজাকার' আবদুল হক ও সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা (নম্বর ৭/১৬৬) হয়েছে। গত সোমবার রাতে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির ছোট ছেলে সাইদুর রহমান পাপ্পু বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০ জনকে আসামী করে মামলা করেন।
জায়গা দখলের পর ‘পুলিশ ডাকায়’ হামলাকারীরা হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখলেও ঘটনার দু’দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামীদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নারীর বাড়ি দখল, মৎস্যজীবীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির জায়গা দখলের ঘটনায় মামলা রেকর্ডের কথা স্বীকার করে গোলাপগঞ্জ থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী জানান, আসামীদের ধরার জন্য অভিযান চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মামলার প্রধান আসামী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এসএ রিপনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অনেক অভিযোগ রয়েছে। গোলাপগঞ্জ থানাও তার বিরূদ্ধে পুলিশ এসল্ট মামলাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া মামলার দ্বিতীয় আসামী রাজাকার আব্দুল হক স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান সম্পর্কে পাকিস্থানীদের তথ্য প্রদান করত বলে সমকালকে জানান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল মুতলিব বীর উত্তম।
এছাড়া স্থানীয় সংখ্যালঘু নারী পুতুল দাসের বাড়ি দখল, মৎস্যজীবীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লোটপাট করেছে বলে জানান মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির বড় ছেলে আব্দুল বাছিত। তিনি বলেন, আবদুল হক ও রিপন তাদের আত্মীয়-স্বজন ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অবঃ) আপ্তাব আলী বীর প্রতীক ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল মুতালিব পৃথক বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির জায়গা দখলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গত সোমবার সকালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার নালিউরি গ্রামে প্রকাশ্যে রাজাকার আবদুল হক ও তার ভাতিজা ছাত্রদল নেতা এসএ রিপনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজির উদ্দিন ও ছায়ারুন দম্পতির বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করে জায়গা দখল করে নেয়।
এ ঘটনার আগে ও পরে দখলকারীরা মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির সন্তানদের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আপনার মন্তব্য