তাহিরপুর প্রতিনিধি

১২ মে, ২০২০ ১৩:৩৫

যাদুকাটা নদীতে কাজ নেই, অসহায় শ্রমিকরা

হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মমুখর যাদুকাটা নদীর চারপাশে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ঘাটে বাধা শত শত নৌকা। কাজ না থাকায় কিংকতর্ব্যবিমূঢ় হয়ে বেকার সময় পার করছে শ্রমিকরা। তাই নদীর চারিদিকে শুধুই নির্জনতা ও ধু ধু বালুচর।

শুধু শ্রমিকরাই নন নিম্ন আয়ের মানুষের কাজ না করে ঘরে অবস্থান করায় পরিবারগুলোতে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে যাদুকাটা নদী ও তার চারপাশের গ্রামে এমনই চিত্র দেখা যায়। যাদুকাটা নদীকে কেন্দ্র করে ১০-১৫টি গ্রামের মানুষ নদীর বুক থেকে বালু আর পাথর তুলে বিক্রি করেই সংসার চালিয়ে আসছেন বছরের পর বছর।

যাদুকাটা নদীর পাড়ে ঘাঘটিয়া-আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, করোনা বিষয়ে তার কোনও চিন্তা নেই। আর লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে অনেক আগেই। পরিবারের সদস্য মা, বাবা, ৭ ভাই-বোনসহ মোট ৯ জন। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সবার বড় সে। তার বাবা সম্প্রতি একটি হত্যা মামলায় আসামি হওয়ায় বাড়ি ছাড়া। তাই সংসারের বড় ছেলে হওয়ায় হাল ধরতে হয়েছে। খাবারের অভাব মেটাতে টাকা উপার্জন করার জন্য এসেছে যাদুকাটা নদীতে নৌকা, বেলছা নিয়ে নেমেছি। কারণ যাদুকাটায় টাকা না থাকলেও আছে বালু আর পাথর যা বিক্রি করে টাকা হাতে পাবে। সেই টাকায় সংসারের প্রয়োজন মেটাবে। সাথে তারই প্রতিবেশী কয়েকজন।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিক সুমন জানায়, গত এক মাসের ধরে নদীতে কাজ বন্ধ। এত দিন কোনরকমে চলেছি। এখন আর পারছি না। তাই নদীতে এসেছি পাথর তুলতে। সারাদিন পাথর তুলে ৩-৪শ টাকা উপার্জন হবে। সেই টাকায় চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে বাড়িতে নিয়ে যাব। এভাবে কত দিন চলবে জানি না। করোনা সব শেষ করে দিলেও আমরা ভয় পাই না।

শ্রমিক নুরুল্লাহ জানায়, আগে এই নদী থেকে ৭-৮শ টাকা উপার্জন করেছি। এখন তো কাজেই করতে পারি না। অভাব এখন বড় আকার ধারণ করেছে। করোনাকে ভয় পাই না। খাবার যোগাড় করতে হলে টাকার প্রয়োজন। করোনার কারণে আবার এখন কোথাও কোনও কাজ নেই। করোনা সব বন্ধ করে দিয়েছে জীবন-জীবিকা চালিকাশক্তি। খাবার তো খাওয়া লাগবে। তাই এই নদীতেই আসতে হয় আমাদের।

পাশে পাথর তোলায় ব্যস্ত একেই গ্রামের মিম মিয়া। পরিবারে ২ ভাই ও ৩ বোন আর মা-বাবা। সে জানায়, স্কুল বন্ধ, তাই চলে এসেছি যাদুকাটা নদীতে। সারাদিনে ২-৩শ টাকা উপার্জন করতে পারি। সেই টাকা দিয়ে করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে সংসারে একটু সহযোগিতা হবে আর কিছু দিন পর ঈদ। ঈদে নতুন কাপড় কিনতে হবে।

উপজেলার সচেতন মহল জানান, করোনার সংকটকালীন সময়ে যাদুকাটা নদীর শ্রমিকরা কষ্টে আছে। তাদের পাশে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

যাদুকাটা বালু-পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সমবায় সমিতির সাধারণ হাকিকুল মিয়া জানান, করোনা পরিস্থিতিতে যাদুকাটা নদীতে দুই হাজারের অধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কাজ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে যেসব খাদ্য সামগ্রী সহায়তা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি জানান, শ্রমিকদের সহযোগিতা করা হয়েছে। আর সরকারি সহায়তা অব্যাহত আছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত