১৬ মে, ২০২০ ১৮:০৫
শায়েস্তাগঞ্জে ঈদের কেনাকাটায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য নির্দেশনা। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এদিকে শায়েস্তাগঞ্জের ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেরও কোন বাস্তবায়ন নেই।
প্রথমে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় উপজেলার দোকানপাট ও শপিং মল না খোলার সিদ্ধান্তের কথা জানালেও এখন কেউ মানছেন না এ সিদ্ধান্ত। আর ক্রেতারাও শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ভিড় করে জামাকাপড় কিনছেন।
গত ১১ মে থেকে দোকানপাট খোলা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশেষ করে শহরের কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
শনিবার (১৬মে) সরজমিনে মার্কেট গুলো ঘুরে দেখা যায় কাপড়ের দোকানগুলোতে নারীদের উপচে পড়া ভিড়।
সালমা বেগম নামে এক ক্রেতা জানান, ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। ঈদে বাচ্চাদের নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে হবে। তাই নতুন কাপড় কিনতে এসেছি। কেনাকাটা করতে এসে তো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যায় না।
গত ১০ মে থেকে সারা দেশে সীমিত আকারে সরকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিলেও জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় শায়েস্তাগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতি ও দাউদনগর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ আলাপ আলোচনা করে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঈদ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে ১১ মে সকাল থেকেই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না মেনে শায়েস্তাগঞ্জের দাউদনগর বাজারে প্রায় অধিকাংশ দোকানপাট খোলা রেখে কাপড়, কসেমেটিক ও জুতা বিক্রি করছেন।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দিনের দিন দোকান না খুলে তারা কী ধরনের আর্থিক কষ্টে আছেন তা শুধু তারাই জানেন, কাউকে বলে বুঝাতে পারবেন না। পেটের দায়ে তারা দোকান খুলেছেন। তবে ক্রেতাদের তারা স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ করছেন সবসময়। কেউ মানছেন, কেউ মানছেন না। তারা নিজেরাও সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং মার্কেটে ঢুকার মুখে সবার হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ দাউদনগর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মাসুক বলেন, এডভোকেট আবু জাহির এমপির অনুরোধ ও জনসাধরনের কথা চিন্তা করে আমরা দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত অমান্য করে দোকানপাট খোলা রেখেছেন।
এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত বলেন আমাদের সমিতির আওতাধীন ব্যবসায়ীরা বলতে গেলে দোকানপাঠ খুলছেন না। হয়তো দুই চার জন দোকান খোলা রাখছেন। আমরা তাদের সাথে আলাপ করে বন্ধ করে দিবো।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী আক্তার বলেন, সরকারী নির্দেশনা মেনে দোকানপাট সীমিত আকারে খুলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাগণ সরকারী নির্দেশনা না মানেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মন্তব্য