২৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৩৬
সিলেট-২ আসনে হঠাৎ নির্বাচনী মাঠে তৎপর হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান। দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে সরব না থাকলেও বুধবার বিকেলে আচমকা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
বিশ্বনাথের একসময়ের জনপ্রিয় নেতা মুহিবুর রহমান হঠাৎ করে আবার নির্বাচনী মাঠে আবির্ভূত হওয়ায় উপজেলা চলছে আলোচনা।
এরআগে ১৯৯১ সালেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন মুহিবুর রহমান। একইভাবে ২০১৪ সালেও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচন করেন মুহিব।
১৯৮৫ সালে বিপুল ভোটে বিশ্বনাথে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তান ঘটে মুহিবুর রহমানের। ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে মুহিব। ওই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির মকসুদ ইবনে আজিজ লামার কাছে পরাজিত হন তিনি। ২০০৯ সালে জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরীকে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মুহিবুর রহমান। এরপর ২০০৯ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন তিনি।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। কিন্তু উপজেলায় জিতলেও মহাজোটের প্রার্থী সেই ইয়াহইয়া চৌধুরীর কাছে পরাজিত হতে হয় তাকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে হেরে যাবার পর ওইবছরের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান মুহিব।
এরআগে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও দলীয় মনোনয়ন পান শফিকুর রহমান চৌধুরী। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক এমপি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম.ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন শফিক চৌধুরী।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জমান চৌধুরী। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে নৌকার পক্ষে প্রচারণায় নামেন মুহিব। কিন্তু দুই চৌধুরীর কাউকে না দিয়ে এবারও মহাজোটের শরিকদল জাপাকে এ আসনটি দেওয়া হলে নিজেই প্রার্থী হয়ে যান মুহিব।
এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুহিবুর রহমান বলেন, সিলেট-২ আসনের মানুষ লাঙ্গল চায় না তারা নৌকায় ভোট দিতে চায়। তাই জাপার কবল থেকে এ আসনটি রক্ষার্থেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।
মুহিবুর রহমান জানান, এবার শতভাগ আশাবাদী তিনি বিজয়ী হবেন। তিনি বলেন শুধু বিশ্বনাথ আর ওসমানীনগরে নয়, দলীয় কোন্দল সব দলে সবখানেই আছে। এবার শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জমান চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে নিয়ে নির্বাচনে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য