০৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:১১
কেউ আমার মুজিব কোট খোলাতে পারবে না বলে মন্তব্য করে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেছেন, মুজিব কোট যে কেউ পরতে পারে, আমি মুজিবকোট পরবো কি পরবো না সেটা আমার একান্ত ব্যাক্তিগত বিষয়। কেউ আমাকে বলে (মুজিব কোট) পরাতে পারবে না আবার খোলাতে পারবে না।
শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় কুলাউড়া পৌর শহরের বিছরাকান্দি এলাকায় একটি বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমনটি বলেন সুলতান মনসুর।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সুলতান মনসুর বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করছেন। এরআগে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতক নৌকা নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।
সুলতান মনসুর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সবার স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’। ৭১-এর সময় কারো সাথে দেখা হলে ‘জয় বাংলা’ বলে হাত মেলানো হতো। তাই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান রণধ্বনি। তবে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান প্রথমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না।
আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা বলেন, জয়বাংলা স্লোগান, বঙ্গবন্ধু ও মুজিব কোট একক কোনো দলের নয়। একটি রাজনৈতিক দল দলীয় স্বার্থে সেগুলো ব্যবহার করে থাকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করেছিলেন। জয়বাংলা স্লোগান, বঙ্গবন্ধু ও মুজিব কোট এগুলো কারও বক্তিগত সম্পদও নয়।
সভার শুরুতে সুলতান মনসুর বলেন, গত ৫ বছর ধরে ভোটারবিহীন নির্বাচনের সরকার দেশ চালাচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র নেই। বাক-স্বাধীনতা নেই। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। আবার টাকা পাচারকারীদের দলীয় মনোনয়নও দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। মানুষ এই অবস্থার পরিবর্তন চায়।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের সচেতনতা প্রয়োজন। তাই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষা করা হবে।
সুলতান মনসুর বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এ আসনে (মৌলভীবাজার-২) আমাকে একক প্রার্থী মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু, কেন্দ্র থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর পর ১২টি বছর কেটে গেছে। ওই সময়ে রাজনৈতিকভাবে কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ পাইনি কিংবা দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলেও যোগ দিইনি। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছি।’
স্থানীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনীতিতে এই ১২টি বছর প্রত্যক্ষভাবে সক্রিয় থাকিনি কারণ এখানে (কুলাউড়া) রাজনীতিতে আমি সক্রিয় থাকলে রাজনৈতিক কোন্দল সৃষ্টি হতো। সেটি আমি চাইনি।
মতবিনিময় কালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাস খান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আলম সোহেল।
আপনার মন্তব্য