নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:১৩

সিলেটে উন্নয়ন নিয়ে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্ট

সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে বাকযুদ্ধে নেমেছে ঐকফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগ নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দাবি, গত দশ বছরে সিলেটে কোনো উন্নয়ন হয়নি। কেবল লুটপাট হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, সিলেটে গত ১০ বছরে সিলেটে ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে।  কেবল অন্ধরাই সে উন্নয়ন দেখতে পায় না।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই উন্নয়ন ইস্যুতে বাকযুদ্ধে নেমেছেন দুই দলের প্রার্থী ও শীর্ষ নেতারা। এই বাকযুদ্ধ উত্তাপ ছড়িয়েছে নির্বাচনী লড়াইয়ে।

বৃহস্পতিবার সিলেটে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচারণা চালিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সকালে নগরীর বন্দরবার এলাকায় সিলেট-১ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে পথসভায় জাসদ সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, গত ১০ বছরে সিলেটে যেমন উন্নয়ন হয়নি। সারাদেশেও তেমনি উন্নয়ন হয়নি। যা হয়েছে, তা শুধুই লুটপাট। মহাজোট সরকারের অর্থমন্ত্রীর ব্যর্থতায় দেশের অর্থনীতি আজ পর্যুদস্তু। গত ১০ বছরে ব্যাংক খাত থেকে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে- এটা গবেষণায় প্রমাণিত। অথচ, অর্থমন্ত্রী বলেন, রাবিশ।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুহিত ব্যর্থ মন্তব্য করে আ স ম রব বলেন, তিনি মন্ত্রী (অর্থমন্ত্রী) হিসেবে যেমন ব্যর্থ তেমনি সিলেটের জনপ্রতিনিধি হিসেবেও কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে না পারায় তিনি ব্যর্থ। এ ব্যর্থতা আওয়ামী লীগের। তাই ব্যর্থ আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না মানুষ।

আ স ম রব বলেন, সিলেটের যেদিকেই তাকাই বিএনপি তথা সাইফুর রহমানের আমলের উন্নয়ন চোখে পড়ে। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর আমলের উন্নয়ন দেখতে হলে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজতে হবে।

এ পথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সিলেটের মানুষ তাদের অনির্বাচিত এমপি মুহিত সাহেবকে দেখেছেন। সিলেটের মানুষের সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিলনা। ভোট নিয়ে তিনি ঢাকায় বসেছিলেন। সিলেটে আসেননি। আর এ কারণেই তিনি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে ভোট থেকে সরে গেছেন। তার ভাই মোমেনও সারা জীবন সিলেটের বাইরে কাটিয়েছেন। এখন বসন্তের কোকিলের মত ভোট চাইতে এসেছেন। ভোটের পরে আর তাকে কাছে পাবেনা সিলেটবাসী।

পথ সভায় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা জাফরুল্লাাহ চৌধুরী বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। আইনের শাসন নেই। গত ১০ বছরে ২২ হাজার মানুষ রাষ্ট্রীয়ভাবে খুন হয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে এর বিচার হবে।

আর সিলেট-১ আসনে বিএনপি তথা ঐক্যজোট প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের দাবি, গত ১০ বছরে সিলেটে বর্তমান সরকার কোনো উন্নয়ন করেনি। যা উন্নয়ন হয়েছে তা করেছেন বিএনপি দলীয় সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়য়। বিএনপি আর উন্নয়ন সমার্থক শব্দ।

তবে বিএনপির এমন দাবিকে মিথ্যাচার হিসেবে মন্তব্য করেছেন সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাতীসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে মোমেন বলেন, যারা বলে সিলেটে গত দশ বছরে উন্নয়ন হয়নি তারা অন্ধ ও মূর্খ। তাদের চোখ মুখ সব বন্ধ। আল্লাহ উনাদের হেদায়েত করলে আমরা খুশি হবো।

তিনি বলেন, উন্নয়ন অস্বীকার করা, মিথ্যাচার ও দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করাই বিএনপির কাজ। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলায় যেসব উন্নয়ন হয়েছে সেটা সবার কাছে দৃশ্যমান।

তিনি আরও বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অর্থমন্ত্রীর বরাদ্দে যেসব উন্নয়ন হয়েছে তা নিজের কৃতিত্ব দেখিয়ে বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীও উন্নয়নের প্রচারণা চালিয়েছেন। অথচ, এখন সিলেট-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী অস্বীকার করে বলছেন, সিলেটে কোন উন্নয়নই হয়নি। অন্ধ লোকও যা বিশ্বাস করবে না।

অর্থমন্ত্রীর এই অনুজ বলেন, সিলেট সিটি ও সদর উপজেলায় বিগত দশ বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরো কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সিলেট-১ আসন ছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন মেগাপ্রকল্প অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাত ধরে হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদন, আখাউড়া-সিলেট ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ প্রকল্প, ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মানদন্ডে উন্নীতকরণ প্রকল্প, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে। যার মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।

ড. মোমেন অর্থমন্ত্রী প্রসঙ্গে আরও বলেন, দশম জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর ক্ষমতার মোহ নেই, তিনি একজন বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত