০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:১৮
বন্দর রক্ষা কমিটি, বামপন্থী একাধিক রাজনৈতিক দল এবং স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ, অনশন ও রাজপথের ধারাবাহিক অবস্থান কর্মসূচির মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল’ (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছে দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'-কে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ইতিহাস সামনে এনে এই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা।
উন্নয়ন অর্থনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক কল্লোল মোস্তফা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিতর্কিত অতীত তুলে ধরে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুষ প্রদান, বেআইনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং দরপত্র ছাড়া গোপন চুক্তি করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী ডিপি ওয়ার্ল্ডের উল্লেখযোগ্য কিছু দুর্নীতির চিত্র:
১. কঙ্গোর 'ব্যানানা পোর্ট' নির্মাণ প্রকল্পে কোনো প্রকার উন্মুক্ত দরপত্র বা পাবলিক টেন্ডার ছাড়াই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কাজ দেওয়া হয়।
ফাঁস হওয়া নথি (ব্যানানা পোর্ট পেপারস) থেকে জানা যায়, কঙ্গোর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার ঘনিষ্ঠজনদের একটি বেনামী সংস্থাকে বন্দরের মালিকানায় ৪০% শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল ডিপি ওয়ার্ল্ড।
২. যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথি অনুসারে, এই কঙ্গো প্রজেক্টের পেছনে ডিপি ওয়ার্ল্ডের তৎকালীন সিইও সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের সাথে বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টাইনের গভীর যোগাযোগ ছিল।
৩. ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ডিপি ওয়ার্ল্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা রাজীব যাদব এবং রভজিৎ সিং-এর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ঘুষ নেওয়ার মামলা করে।
৪. আফ্রিকার দেশ জিবুতির বৃহত্তম 'ডোরালেহ কন্টেইনার টার্মিনাল'-এর ৩০ বছরের একচেটিয়া পরিচালনার অধিকার পেতে ডিপি ওয়ার্ল্ড সেদেশের বন্দর চেয়ারম্যান আবদুরাহমান বোরহকে শেল কোম্পানি এবং ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে জিবুতি সরকার। এই দুর্নীতির কারণে জিবুতি সরকার চুক্তিটি বাতিল করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি বাতিল করে।
কল্লোল মোস্তফা বলেন, অথচ বাংলাদেশে একটা ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিলেই চট্টগ্রাম বন্দরের দুর্নীতি অনিয়ম দূর হয়ে যাবে!
আপনার মন্তব্য