বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:৩১

মৌসুমী নয়, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের নির্বাচনের ফল নিয়ে নানা গুজব-আলোচনা থাকলেও আবারও সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মিশা সওদাগর, আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জায়েদ খান।

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, এবার ২১টি পদের বিপরীতে ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মোট ভোটার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৮৬জন।

নির্বাচনে সভাপতি পদে মিশা সওদাগরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী এবং জায়েদ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইলিয়াস কোবরা। নির্বাচিত হতে মিশা সওদাগর পেয়েছেন ২২৭ ভোট এবং মৌসুমী পেয়েছেন ১২৫ ভোট।

মিশা-জায়েদ দু’জনে আগের মেয়াদেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এবারও তাদের প্যানেল থেকে সব প্রার্থীই জয়ী হয়েছেন।

এরআগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদে নেতা নির্বাচনে শুক্রবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটের আগ থেকে উত্তাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোট হয়েছে সুষ্ঠুভাবে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন ভোট গণনা চলছিল তখনই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে মৌসুমীর জয়ের খবর। অবশ্য সেই খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন সভাপতি পদ প্রার্থী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও খল অভিনেতা মিশা সওদাগর।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রযোজক সমিতির কক্ষে বসে তারা দুজনে সাংবাদিকদের বলেন, এ খবর গুজব। মৌসুমী বলেন, ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সত্য নয়। আপাতত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে মধ্যরাত পর্যন্ত। মিশা সওদাগর বলেন, ফেসবুকে মৌসুমীর বিজয়ের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, রেজাল্ট যা হয় মেনে নেব। দর্শকদের আগাম শুভেচ্ছা। বিশেষ করে মৌসুমীর দর্শকদের, আমরা সবাই মৌসুমীর দর্শক।

এদিকে, ফল ঘোষণার পর মিশা সওদাগর বলেন, সবার দোয়া ও ভালোবাসায় আমরা জয়ী হতে পেরেছি। চলচ্চিত্রের সব শিল্পী, কলাকুশলীসহ এফডিসির সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শিল্পীদের সবাইকে নিয়ে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করব।

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পীরা যাতে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থা করব। শিল্পীরা কেউ হারেনি। আমরা আগামীতে যেনো বিগত বছরের কাজের গতিটা ধরে রাখতে পারি সবার কাছে এই দোয়াই চাই।’

এবারের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তিন তিন প্রার্থী। তারা হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সুব্রত, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ও কোষাধ্যক্ষ পদে ফরহাদ। ভোট গ্রহণের আগে নির্বাচন কমিশন যখন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ওই তিন পদে তিনজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনে শুধু একটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, মিশা সওদাগর এবং জায়েদ খান। এর বাইরে অন্যরা স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। এবার ১৫তম নির্বাচন হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ১৫তম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দিয়ে শুরু হয়ে এবারের ২০১৯-২১ এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন।

যারা নির্বাচিত হলেন- সভাপতি মিশা সওদাগর; সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান; সহসভাপতি ডিপজল ও রুবেল; সহসাধারণ সম্পাদক আরমান; সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত; আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ইমন; দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর; সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক জাকির হোসেন; কোষাধ্যক্ষ ফরহাদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত