আজ বুধবার, , ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

১৪ মার্চ, ২০১৮ ২৩:০৭

হুইল চেয়ার থেকে কৃষ্ণগহব্বর

জন্মেছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলির মৃত্যুদিনে আর মৃত্যুবরণ করেছেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের জন্মদিনে। 

অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের পর, আর কোনও বিজ্ঞানী বিশ্ব জোড়া এত জনপ্রিয়তা পাননি যতটা পেয়েছেন তিনি। তাঁর জীবন নিয়ে সিনেমা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। তবে যে বই তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে তুলেছিল, তা অবশ্যই ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’। ক্লাস টেনের অঙ্ক জানা ছাত্রও আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞান বা ব্রহ্মাণ্ডচিন্তার তত্ত্ব জেনেছেন এই বই পড়ে।

কথা হচ্ছে ২২ বছর বয়সে চিকিৎসকদের বেঁধে দেওয়া ২ বছরের আয়ুকে অস্বীকার করে ৭৬ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে যাওয়া বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং নিয়ে। স্নায়ুর মারাত্মক অসুখ এএলএস (অ্যামিয়োট্রপিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস) সঙ্গে নিয়েই আমৃত্যু পর্যন্ত লড়ে গেলেন তিনি। শুধু লড়াই নয়, কাজও করে গেলেন আমৃত্যু।

জীবদ্দশাতেই তিনি কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন। ঘটনাচক্রে তাঁর জন্ম আর মৃত্যুর সঙ্গে জুড়ে রইল বিজ্ঞানের আরও দুই কিংবদন্তি পদার্থবিদের নাম। তাঁর জন্মদিন ৮ জানুয়ারি গ্যালিলিও গ্যালিলির মৃত্যুদিন। আর যে দিন মারা গেলেন হকিং, সেই ১৪ মার্চ অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের জন্মদিন।

স্টিফেন হকিং রেখে গেলেন তিন ছেলে লুসি, রবার্ট এবং টিম-কে। বিজ্ঞানীর মৃত্যুতে তাঁর ছেলেদের তরফে জানানো হয়েছে, “বাবার মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। এক জন বিখ্যাত বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি তিনি এক জন অসাধারণ মানুষও ছিলেন।”

১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্ম প্রবাদ প্রতিম এই বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর। ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’-এর লেখক কাজ করেছেন মহাবিশ্বের জন্ম, তার বিকাশ এবং ব্ল্যাকহোলের মতো তত্ত্ব নিয়ে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান প্রফেসর অব ম্যাথামেটিক্সের আসনে দীর্ঘ ৩০ বছর (১৯৭৯-২০০৯) ছিলেন তিনি। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এই অ্যাকাডেমিক পদে এক সময় (১৬৬৯-১৭০২) ছিলেন আইজাক নিউটন।

আসলে পদার্থবিদ্যা যত বেশি বেশি জটিল অঙ্কনির্ভর হয়েছে, তত বেশি এর বিযুক্তি ঘটেছে বিশেষজ্ঞ নন এমন মানুষদের থেকে। হকিংয়ের আগেও বহু বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানলেখক এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে, কঠিন তত্ত্বকথাকে যথাসম্ভব সহজবোধ্য করে লেখার কাজ করেছেন। স্বয়ং আইনস্টাইন নিজের অপেক্ষবাদ নিয়ে পপুলার সায়েন্সের লেখা লিখেছেন। কিন্তু হকিং-এর বইটির জনপ্রিয়তা অতীতের সব কিছুকে ছাপিয়ে যায়। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত এই বই শুধু ইংরেজিতেই বিক্রি হয়েছে কোটির উপর। টানা পাঁচ বছরের উপর লন্ডন সানডে টাইমসের বেস্টসেলার তালিকায় থেকেছে এই বই। অনুবাদ হয়েছে বাংলা-সহ বহু ভাষায়।

হুইল চেয়ারে বসে জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দেওয়া এই বিজ্ঞানী জীবদ্দশায় শাসন করেছেন পদার্থবিজ্ঞানের জগৎটাকে। মৃত্যুর পরও তাকে বিজ্ঞানীরা রাখবেন সে আসনেই। তাঁর কর্ম আর চিন্তায়ই সেই স্থানে অবস্থান করবেন আমাদের সময়েই এই নায়ক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত