রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

রিপন দে

২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৪৪

বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র হরিণ!

ছবি: ইন্টারনেট।

৩০ বছর পর সম্প্রতি ফিরে পাওয়া ভিয়েতনামের এই (ছবির) মাউস ডিয়ারের মত ছোট হরিণ বাংলাদেশেও ছিল। যা বাংলাদেশে ছাগুলে লাফা, শোস বা শোশা নামে পরিচিত ছিল এর ইংরেজি নাম মাউস ডিয়ার, বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ক্ষুর যুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী মাউস ডিয়ার আঁকারে প্রায় বুনো খরগোশের মত আবার দেখতে অনেকটা হরিণের মত।

তবে প্রথম দেখায় অনেকেই একে বিরল প্রজাতির খরগোশ বা হরিণ ভেবে ভুল করতে পারেন। এদের দৈহিক দৈর্ঘ্য ৫৭ সেন্টিমিটার, লেজের দৈর্ঘ্য ২.৫ সেমি। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক শোসার ওজন প্রায় ৭ পাউন্ড। এদের আছে অনেক প্রজাতি, প্রজাতিভেদে কোন কোন প্রজাতি আঁকারে আরও বড় হতে পারে। এরা নিশাচর প্রাণী। রাতের বেলা খাবার সন্ধান বা ঘোরাফেরা করে। দিনে বেলা আড়ালে লুকিয়ে থাকে তাই সহজে মানুষের চোখে ধরা পড়েনা। এরা উদ্ভিদভোজী তবে কেউ কেউ পোকামাকড়, মাছ-কাঁকড়াও খায়।

এক সময় বাংলাদেশেও শোসা ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে স্বরণকালে এর দেখা মিলেছে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতে দেখা মিলে এদের বৈজ্ঞানিক নাম Indian spotted chevrotain (Moschiola indica)।
 
গবেষকরা জানিয়েছেন, ৩৪ বছর আগে বাংলাদেশে এর দেখা মিললেও বিলুপ্তি ঘোষণার প্রায় ৩০ বছর পর সম্প্রতি এদের দেখা মিলেছে ভিয়েতনামে। ত্রিশ বছর পূর্বে মনে করা হয়েছিলো মাউস ডিয়ার ভিয়েতনাম থেকেও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ভিয়েতনামে এই প্রাণীটির নাম Silver-backed Chevrotain or Mouse deer। ভিয়েতনামের উত্তর পশ্চিমের বনে সাম্প্রতিক এই প্রাণীটি ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরাপরে।

মাউস ডিয়ার বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ক্ষুর যুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী। মাউস ডিয়ার আঁকারে প্রায় বুনো খরগোশের মত। প্রথম দেখায় অনেকেই খরগোশ বলে ভুল করতে পারেন।  

শোস নিয়ে কথা বলেছেন সুন্দরবনের আদি প্রত্নতত্ত্ব ও বন্যপ্রাণী গবেষক ওয়াইল্ডটিমের কর্মী ইসমে আজম। ইসমে আজম ইতিমধ্যে সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিলুপ্ত প্রাণীর জ্বিবাশ্ব আবিষ্কার করেছেন এবং নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছেন। শোস নিয়ে তিনি জানান, আমাদের বাংলাদেশেও "মাউস ডিয়ার" ছিল বা মতান্তরে আছে। আমি বাংলাদেশের সেই "মাউস ডিয়ার" এর প্রথম তথ্য পেয়েছিলাম আমার মায়ের কাছে। শুনেছি রংপুর অঞ্চলে ১৯৮৫ সালে শেষ এই প্রাণীটি দেখাগিয়েছিলো। রংপুর অঞ্চলে নাকি এই প্রাণীটিকে শোস বা শোশা বলা হতো। কেউ কেউ আবার খরগোশকেও শোস বা শোশা বলে। দেখতে খরগোশের আঁকারের তবে পায়ে ছাগলের মত ক্ষুর আছে। বাংলাদেশের বৃহত্তর যশোর অঞ্চলেও এদের উপস্থিতির উল্লেখ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় ভাবে এদের ছাগুলে লাফা বলা হতো বা হয়। সাধারণত্ব খরগোশকে স্থানীয় ভাবে যশোর অঞ্চলে লাফা বলা হয়। কিন্তু এই প্রাণীটির পা ছাগলের মত হওয়ায় একে ছাগুলে লাফা বলা হয়। মজার বিষয় বয়স্ক লোকজনের সাথে কথা বলে জেনেছিলাম, বুনো খরগোশের পা বিড়ালের মত হওয়ায় নাকি তা মুসলিমদের জন্য হারাম। তবে যে খরগোশের পা ক্ষুর যুক্ত সেই খরগোশ খাওয়া হালাল। আমার কয়েকজন বন্ধু এই ছাগুলে লাফা দেখেছেন এমনকি ধরে খেয়েছে বলে দাবিও করেছিলো। তবে এখনো জীবিত প্রমাণ পাইনি। কিন্তু আশ্চর্য ভাবে প্রাণীটির একাধিক আঞ্চলিক নাম থাকলেও বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীর তালিকায় কোথাও এই প্রাণীটির উল্লেখ্য করা হয়নি বা অনুসন্ধান হয়েছে কিনা জানা নেই।

তবে এই প্রানীটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানিয়েছেন এই গবেষক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত