আজ বুধবার, , ২৩ মে ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ২১:০০

যাচাই-বাছাই শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত গেজেট

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে নানা ধরনের অসংগতি ও ত্রুটি পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হলে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে মোজাম্মেল হক এ কথা জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠক শুরুর পর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি দলের সাংসদ আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয়ের লক্ষ্যে ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। এ জন্য গঠিত ৪৭০টি যাচাই-বাছাই কমিটির মধ্যে ৩৬০টি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যেসব উপজেলা, জেলা-মহানগরের মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অসংগতি ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত কতজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন এবং কতজন জীবিত আছেন, এর সঠিক পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয়ের লক্ষ্যে ডেটাবেজ কার্যক্রম চলছে। ডেটাবেজ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে। তখন জীবিত, মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিসংখ্যানসহ তাঁদের অন্য তথ্যাদি জানা যাবে।

স্বতন্ত্র সাংসদ রহিম উল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে, এ জন্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান, তথ্য দিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ ছাড়া যাচাই-বাছাইয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া গেলে তাঁদের নামে প্রকাশিত গেজেট, সনদসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা নিয়ে সংসদের প্রশ্নোত্তরে বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকায় সংসদে ক্ষমা চেয়েছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক। সরকারদলীয় সাংসদ আবদুল মজিদ তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, হবিগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক তেলিয়া পাড়া চা-বাগানে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল কর্নেল ওসমানীর সভাপতিত্বে অনেক সেনানায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আবদুল মজিদ তার প্রশ্নে ঐতিহাসিক ওই স্থানটি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ রয়েছে কি না, তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে জানতে চান। মন্ত্রী তার লিখিত জবাবে ওই স্থানের বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানান। তবে, ৪ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি সংসদের নজরে আনেন। রফিকুল ইসলাম বলেন, ৪ এপ্রিল যদি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়, তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতাসংগ্রাম কি মুক্তিযুদ্ধ নয়? এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এটাকে যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রশ্ন তুলবে, বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার সঙ্গে এই ঘোষণার পার্থক্যটা কোথায়? মন্ত্রী এ বিষয়টি স্পষ্ট না করলে ইতিহাস বিকৃতি থাকবে।

তখন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার এই ভুলের জন্য এই সংসদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। এটা যেহেতু পড়া হয়নি। আমারও মনে ছিল, কিন্তু বলার সময় ভুলে গেছি। তিনি (আবদুল মজিদ খান) যে কথা বলেছেন, ৪ এপ্রিল কর্নেল ওসমানীর সভাপতিত্বে অনেক সেনা ও জনগণের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া, এটা ভুল তথ্য। তারা সেখানে বৈঠক করেছিলেন, এটা ঐতিহাসিক সত্য। মিটিং করে তারা রণকৌশল সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ ঘোষণার কোনো সুযোগই ছিল না।’

মোজাম্মেল হক এ সময় স্পিকারকে তার ক্ষমতাবলে আবদুল মজিদ খানের বক্তব্য সংশোধন করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত