মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:১১

ওয়ার্কার্স পার্টি ছাড়লেন বিমল বিশ্বাস

বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ছেড়েছেন দলটির পলিটব্যুরোর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস।

মঙ্গলবার তিনি পার্টির কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রত্যাহারপত্র পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিমল বিশ্বাস বলেন, আমি পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে সরে যাওয়ার একটি চিঠি পাঠিয়েছি। পরে আমি মেনন (দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন) ভাইকে বিষয়টি ফোনে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, একটি মার্কসবাদ, লেনিনবাদভিত্তিক কমিউনিস্ট আদর্শ থেকে অধঃপতিত নেতৃত্বের অধীনে কেউ পার্টি করতে পারে বলে আমি মনে করি না। ওয়ার্কার্স পার্টি এই আদর্শের অধিকার হারিয়েছে। এ কারণে পার্টি ছেড়েছি।

বিমল বিশ্বাস বলেন, গঠনতান্ত্রিকভাবে দলের মেম্বারশিপ প্রত্যাহার আমার ডেমোক্রেটিক রাইট। দলের কোনো সিদ্ধান্ত আর আমার জন্য প্রযোজ্য নয়। সামনে ২ নভেম্বর কংগ্রেস শুরু হবে। এর অন্তত ১৫ দিন আগে প্রত্যাহারপত্রটি পাঠালাম।

১৯৪৬ সালের ১২ জুলাই জন্ম নেওয়া বিমল বিশ্বাস ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের সময় বাম রাজনীতিতে যুক্ত হন। রুশ-চীন দ্বন্দ্বে সারাবিশ্বে কমিউনিস্ট পার্টির বিভাজনের পর তিনি ছিলেন চীনপন্থি শিবিরে।

নানা দল হয়ে ১৯৯২ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি গঠিত হলে সেই অমল সেন ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে গঠিত ওয়ার্কার্স পার্টিতে যুক্ত হন বিমল বিশ্বাস।

তিনি বলেন, আমি বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টিসহ তিন দলের ঐক্য, পরে চার দলের ঐক্য, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগসহ ৫ দলের ঐক্য- যত টুকরো হয়েছিল সেগুলোকে ইউনাইটেড করতে করতে ১৯৯২ সালে মেনন ভাইদের সঙ্গে এক পার্টি হলাম। আমাদের যে খণ্ডবিখণ্ড শক্তি, তাতে ঐক্যবদ্ধ হলাম ১৯৯২ সালের ৪ মে।

এদিকে, বিমল বিশ্বাসের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ খান মেননবলেন, তিনি একটা চিঠি আমাদের দিয়েছেন, আগামী ২৬-২৭ তারিখ আমাদের জাতীয় কমিটির বৈঠক আছে। আমাদের পার্টির নিয়ম অনুযায়ী এর সিদ্ধান্ত বৈঠকেই হবে, বৈঠক ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলতে পারব না।

অভিযোগের বিষয়ে মেনন বলেন, তার অভিযোগ, আমাদের পার্টি নীতি-নৈতিকতা হারিয়েছে। আমরা যেই নীতিতে চলছি, তিনিও সেই নীতিতিই আছেন। গত সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন।

“এছাড়া আমরা যখন ১৪ দলে যোগ দিই, তখন উনার মতামতেই যোগ দিয়েছিলাম, উনি তখন পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এখন হঠাৎ করে চিঠি দিয়েছে। দেখি বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত