শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:০৫

সেই রাব্বানীও নূরের পদত্যাগ চান

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অপসারিত গোলাম রাব্বানী ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে ‘লজ্জিত’ হওয়ার দাবি করেছেন। ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত গোলাম রাব্বানীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ২৩ জন ছাত্র-প্রতিনিধি ডাকসুর ভিপি পদ থেকে নুরুলের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

রোববার দুপুরে ডাকসুর সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে ছাত্রলীগের ডাকসু প্রতিনিধিরা নূরের পদত্যাগের দাবি জানান।

ডাকসুর ভিপি নুরুল হকের ‘টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য ও অনৈতিক অর্থ লেনদেনের’ প্রতিবাদে নিন্দাজ্ঞাপন, ভিপি পদ থেকে নূরের পদত্যাগের আহ্বান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডাকসুর সর্বোচ্চ পদ যেটি, ভিপি পদ, নুরুল হক নূর সেটিকে স্পষ্টভাবেই বিতর্কিত ও কলঙ্কিত করেছেন। আমরা তার প্রমাণও পেয়েছি। তার অডিও ফোনালাপ গতকাল ভাইরাল হওয়া ভিডিও। আমরা ডাকসু পরিবার এই অপকর্মের দায়ভার নিতে রাজি নই। আমাদের আহ্বান, ডাকসুর ভিপি পদকে আর বিতর্কিত না করে নুরুল যেন অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করেন। তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, আমরা ডাকসুর সভাপতির প্রতি আহ্বান জানাই, নৈতিক স্খলনের কারণে তিনি যেন নূরকে ডাকসুর ভিপি পদ থেকে বহিষ্কার করেন।’

এদিকে, গোলাম রাব্বানী যখন নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তখন সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন রাব্বানী। গত মার্চে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে এমফিলে ভর্তির সুযোগ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এটি নৈতিক স্খলন নয় কি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাব্বানী বলেন, ‘এটা নিয়ে ইতিমধ্যে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হয়েছে, তদন্ত হয়েছে। আমি যে নিয়ম মেনেই ভর্তি হয়েছি, সেটা স্পষ্ট হয়েছে। এমফিলে ভর্তির কাগজপত্র যথাসময়েই আমি বিভাগে জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু বিভাগের দীর্ঘসূত্রতার কারণে যথাসময়ে তা জমা হয়নি। আমি যথাসময়েই জমা দিয়েছিলাম। সুতরাং এখানে আমার কোনো ব্যর্থতা বা দায়বদ্ধতা নেই। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি। একটা অভিযোগ উঠেছিল, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নিয়ম আছে, তা আমার জানার কথা নয়। সঠিক সময় ও মুহূর্তে আমি আমার সঠিক কাজটি করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে তাদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছিল, সে বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে রাব্বানী তার কোনো জবাব দেননি।

এই প্রশ্নের জবাব দেন ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরে যা ঘটেছে, তা একটি ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেটির আলোকে কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোলাম রাব্বানী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু তার কোনো ফোনালাপ বের হয়নি, তার কোনো পারিবারিক ব্যবসার কথা বলা হয়নি, কোনো আন্টির কথা বলা হয়নি। তবু দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি সংগঠন থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। সেদিক থেকে ভিপি নুরুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি আরও বেশি জোরালো।’

পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে নিজের কথোপকথনের একটি ফাঁস হওয়া অডিও প্রসঙ্গে কথা বলেন রাব্বানী। তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনায় যে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তা ওই ফোনালাপে পরিষ্কার হয়েছে। আমি যেহেতু তখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম, আমার একটি ইউনিটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আমি সে বিষয়ে কথা বলেছিলাম। এটি আমার বিষয় নয়, তাদের। তবু অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমি ও আমার সভাপতি অব্যাহতি নিয়েছি। এরপর থেকে আমরা ওই ঘটনার বারবার তদন্ত চেয়েছি, কোনো তদন্ত কমিটি কিন্তু করা হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ডাকসুর সদস্য রাকিবুল হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে ‘আপামর ছাত্রসমাজের’ পক্ষ থেকে সব ‘অপকর্ম, ব্যর্থতা ও অক্ষমতা’ স্বীকার করে ডাকসুর ভিপি পদ থেকে নুরুল হককে পদত্যাগের আহ্বান জানান ছাত্রলীগের ডাকসু প্রতিনিধিরা। ডাকসুর ভিপি পদকে ‘অপবিত্র’ করা ও ‘অপব্যবহারের অপরাধ’ স্বীকার করে নুরুল যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে তাকে ডাকসু থেকে বহিষ্কারের জন্য উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি মো. আখতারুজ্জামানের কাছে আহ্বান জানান তারা। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান, নুরুলের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তদন্তের ব্যবস্থা করে ডাকসু তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কলঙ্কমুক্ত’ করা হোক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত