মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ জুন, ২০১৯ ১৩:১৭

কুলাউড়ার লুহাইনি চা বাগান শ্রমিকদের দাবি পূরণে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লুহাইনি চা বাগানের চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ধরণের সমস্যায় জর্জরিত।সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন চা শ্রমিকরা। ইতোমধ্যে চা শ্রমিকদের ১৩ দফা দাবী পেশ করেছেন তারা। তাদের দাবী পূরণে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন চা শ্রমিকরা।

শুক্রবার (২১জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন শুরু করেন এই চা বাগানের চা শ্রমিকরা। সকল চা শ্রমিকরা লুহাইনি-হলিছড়া চা-বাগান কর্তৃপক্ষ হামীম গ্রুপের স্থানীয় মহাব্যবস্থাপকের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের ১৩ দফা দাবী পেশ করেন এবং তাদের দাবী পূরণে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেন।

চা শ্রমিকদের ১৩ দফা দাবিগুলো হলো জোরপূর্বক চা শ্রমিকদের জায়গা-জমি কেড়ে নেয়া যাবে না, দীর্ঘদিন থেকে কাজ করা অস্থায়ী চা-শ্রমিকদের অবিলম্বে স্থায়ী করতে হবে, চা-শ্রমিকদের ঘর-বাড়ি মেরামতে উদ্যোগ নিতে হবে, মন্দির-মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় লোক নিয়োগ করতে হবে, শ্মশানঘাটের জায়গা দখল করা যাবে না, গো-চারণের জন্য নির্ধারিত দখলকৃত জায়গা ফিরিয়ে দিতে হবে, স্থানীয় ঠিকা শ্রমিকদের জন্যও রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে, চা-শ্রমিকদেরকে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে, প্রত্যেক চা শ্রমিক পরিবারে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করতে হবে, স্প্রেয়িং সেকশনে কর্মরত সকল শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদান করতে হবে, নারী চা-শ্রমিকদের দিয়ে চা কারখানায় কাজ করানো যাবে না, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে ও চা-বাগানের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছনতায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।   

এ ব্যাপারে লুহাইনি চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবি ভূমিজ বলেন, আমাদের উপর বয়ে যাওয়া অন্যায় অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। আমাদের ১৩ দফা দাবির আন্দোলনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।  

চা-শ্রমিক নেতা বিশ্বজিৎ কৈরী বলেন, আজ আমরা আমাদের ১৩ দফা দাবি আমাদের মালিকের কাছে পেশ করেছি এবং আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছি আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগান বন্ধসহ কঠোর আন্দোলন-সংগ্রাম হাতে নিবো।

জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা মোহন রবিদাস বলেন, লুহাইনি চা বাগান কর্তৃপক্ষ চা-শ্রমিকদের জায়গা জমি জোরপূর্বক দখলসহ যে অত্যাচার-নিপীড়ন করছে তা সাম্প্রতিককালের যে  কোন চা বাগানের সমস্যাকে হার মানায়। আমি এই অত্যাচার-নিপীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।   




আপনার মন্তব্য

আলোচিত