নিউজ ডেস্ক

০৬ জানুয়ারি, ২০১৫ ১৯:৫১

তারেকের বক্তব্যের প্রচার বন্ধে আইনজীবীর রিট


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে বিতর্কিত হওয়া বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচার বন্ধে আদালতে গেছেন এক আইনজীবী।


নাসরিন সিদ্দিকী লিনা নামের ওই আইনজীবী মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন। তার পক্ষে আইনজীবী হিসাবে রয়েছেন সানজিদা খানম।

ভবিষ্যতে কোনো পত্রিকা, ইলেট্রনিক মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেকের বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার বা পুনঃউৎপাদন বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিবের প্রতি নির্দেশনা চেয়েছেন বাদী।

তার আবেদনে তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে বিবাদী করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রিটে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে তথ্য সচিবের প্রতি কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না- তা জানতে রুল চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য দেওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ‘ফেরারি আসামি’ তারেক রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে নানা ‘অপরাধমূলক’ কথা বলছেন, যা দণ্ডবিধি অনুসারেও অপরাধ।

“এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন, যা তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুসারে অপরাধ।

“এর মাধ্যমে তিনি শান্তিভঙ্গ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছেন। পলাতক এই আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় পুনরাবৃত্তিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যম পুনঃউৎপাদন না করলে এর পুনরাবৃত্তির সুযোগ থাকবে না।”

২১ অগাস্টসহ বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে ছয় বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করা তারেক সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সভায় বাংলাদেশের ইতিহাসের নিজস্ব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন।

এর মধ্যে গত ১৬ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি ‘রাজাকার’ বলেন। এর আগে ৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুকে তিনি ‘পাকবন্ধু’ আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করার দাবি তোলেন।

অগাস্টে এক সভায় বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে ‘বাংলাদেশের অভিশাপ’ এবং আওয়ামী লীগকে ‘কুলাঙ্গারের দল’ বলেন তারেক।

কয়েক মাস আগে আরেক সভায় নিজের বাবা জিয়াউর রহমানকে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলে দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে বলেন ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’।

এসব বক্তব্যের জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তারেককে। সেইসঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও উঠেছে।

টানা কয়েকটি সভায় বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশে তারেকের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা হয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত।

নাসরিন সিদ্দিকী লিনা তার রিট আবেদনে বলেছেন, “যেহেতু এই কালপ্রিটের অবস্থান চিহ্নিত করে তাকে এখনই ধরা সম্ভব না। সেই কারণে তার বক্তব্য প্রচারে তথ্য সচিবকে নির্দেশনা দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত