৩০ মে, ২০২৬ ২২:৩৫
প্রতিবার দীর্ঘ ছুটিতে প্রকৃতির লীলাভূমি ও চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের ঢল নামে। তবে এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে অনেকটা ব্যতিক্রম। এবার আশানুরূপ পর্যটক সমাগম হয়নি দেশের অন্যতম এই পর্যটন আকর্ষনীয় স্থানে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শ্রীমঙ্গলে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন— হামের প্রাদুর্ভাব, যাতায়াতে ভোগান্তি, ট্রেনের টিকিট সংকট এবং আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে এবার ঈদের ছুটিতে প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেনি। ফলে দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের আনাগোনা থাকলেও নেই আগের বছরগুলোর মতো উপচে পড়া ভিড়।
ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে যারা এসেছেন তারা শ্রীমঙ্গলের সবুজ চাদরে ঢাকা প্রকৃতিতে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকেরা।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক রফিকুল ইসলাম বলেন, "ঈদের দিন কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই রাতের মধ্যে শ্রীমঙ্গলে চলে এসেছি। চারদিকে সবুজের সমারোহ, নির্মল পরিবেশ আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য মনকে ভীষণভাবে প্রশান্ত করে। এর আগে দুবার শ্রীমঙ্গলে এসেছিলাম, এবার নিয়ে তৃতীয়বার। প্রতিবারই এখানে নতুন কিছু দেখার সুযোগ হয়।
চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক পর্যটক চঞ্চল বড়ুয়া জানান, তিন দিনের পরিকল্পনা নিয়ে ঈদের আগের দিনই তারা শ্রীমঙ্গলে পৌঁছেছেন। চা-বাগান ও লেক ঘুরে ছবি তুলে দারুণ সময় কাটছে তাদের।
তিনি বলেন, প্রথম দিন আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক ও শীতল ছিল, তবে এখন তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। তারপরও শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত আবহ আমাদের মুগ্ধ করেছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এমন পরিবেশ সত্যিই মানসিক প্রশান্তি দেয়।
শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের প্রধান আকর্ষণসমূহ পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত শ্রীমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন চা-বাগান, বধ্যভূমি-৭১ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন হরিনছড়া গলফ মাঠ ও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) রাবার বাগান, বাইক্কা বিল ও চম্পা লেক নীলকণ্ঠ টি কেবিনের সাত রঙের চা লাল পাহাড়, খাসিয়া পল্লি ও মণিপুরী পাড়া এছাড়াও শ্রীমঙ্গলের পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ পর্যটকদের সমানভাবে আকর্ষণ করছে।
রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে রাধানগর এলাকার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছিল। ঈদের দিন পর্যটক কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে তা বৃদ্ধি পায়। তবে তিনি যোগ করেন, হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক বাইরে ঘোরাঘুরির পরিবর্তে রিসোর্ট ও কটেজের ভেতরেই সময় কাটাচ্ছেন। তারপরও আমরা আশা করছি ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।
শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সারা বছর এই বড় ছুটিগুলোর দিকেই তাকিয়ে থাকেন। তবে এবারের মন্দাভাব নিয়ে পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসকে দাশ সুমন বলেন,
"অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের সংখ্যা স্পষ্টতই কম। কোথাও উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে না। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, সড়কপথে দীর্ঘ যানজট, ট্রেনের টিকিট সংকট এবং যাতায়াতের নানা ভোগান্তিই পর্যটক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে আমরা মনে করছি।
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক প্রজিত কুমার দাশ বলেন, "ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলের সকল গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পর্যটকেরা যাতে সম্পূর্ণ স্বস্তিতে ও নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আপনার মন্তব্য