৩১ মে, ২০২৬ ০০:১৯
সিলেটে চা বাগানে ঘুরতে আসা এক তরুণীকে উত্যক্ত ও হেনস্তা করেছে বখাটেরা। হেনস্তার সময় ওই তরুণী নিজেই তার ফেসবুক পেজে তা লাইভ করেন।
সিলেটের গোয়াবাড়ীর আলী বাহার চা বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তরুণীর করা ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। এরপর উত্যক্তকারী তিনজনকে শনাক্ত করে তাদের আটকে অভিযানের নামে পুলিশ।
এ অবস্থায় রাতে উত্যক্তকারী ৩ তরুণকে আটকের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনিবার (৩০ মে) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আশফিকা তাহসিন নামে এক তরুণী সিলেট গোয়াবাড়ি এলাকায় ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন। তিনি এ হেনস্তার হওয়ার ঘটনাতার ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে লাইভ করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ‘এই নারী পর্যটক চা বাগান এলাকায় ঘুরতে গিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন। এ সময় কয়েকজন কিশোর ও তরুণ তাকে অনুসরণ করতে থাকে। ভিডিওতে ওই নারী অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করছে এবং অশালীন আচরণ করছে।
নারী পর্যটক একসময় বলছেন, ‘তোমরা মেয়ে দেখো নাই?’ এই প্রশ্নের জবাবে উত্যক্তকারী তরুণীদের অশোভনভাবে হাসতে দেখা যায়। এসময় একজন তরুণ ওই নারীর মোবাইল ক্যামেরার সামনে এসে পোজ দিতে ও আরেকজনকে সিগারেট টানতে টানতে উত্ত্যক্ত করতে দেখা যায়।
উত্যক্তকের শিকার নারী পর্যটকের দাবি, তিনি ওই তরুণদের বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায়নি। বরং তার পেছন পেছন আসতে থাকে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আশপাশে থাকা লোকজন ঘটনাটি দেখলেও কেউ প্রতিবাদ বা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেননি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই পর্যটন এলাকায় নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসেন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। তবে এমন অভিযোগ সামনে আসায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্থানীয়দের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
এ ব্যাপারে সিলেট মহাগেরের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও্সি) সহিদুর রহমান শনিবার রাতে সিলেটটুডেকে বলেন, নারী পর্যটককে উত্যক্তের ভিডিও নজরে আসার পর আমরা তিন তরুণকে সনাক্ত করে তাদের আটকে ওই এলাকায় অভিযান চালাই। তবে তাদের পাওয়া যায়নি।
ওসি বলেন, রাতে শুনতে পারি পুলিশ ওই তিনজনকে আটক করে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তাদের ছেড়ে দেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিডিও দেখে সনাক্ত করে শনিবার রাতে তিনজনকে ধরে আনেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়ভাবে সালেশের পর তাদেরকে নিজ নিজ অভিভাবদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
ওই সালিশে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজ খান সজিব। তিনি রাতে সিলেটটুডেকে বলেন, ভিডিও দেখে এলাকার মানুষজন তিন কিশোরকে ধরে এনেছিলো। তাদের বয়স ১৩/১৪ বছর। পরে এলাকাবাসী তাদের মরধর করে। এবং ওই কিশোররা উত্যক্তের ঘটনায় ক্ষমা চায়। তাদের অভিভাবকরাও ক্ষমা চায়। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সজিব বলেন, ওই কিশোরদের বাড়ি টুকের বাজার ইউনিয়নের গোয়াবাড়ি, জাহাঙ্গীর নগর, উপর পাড়া এলাকায়। উত্যক্তের শিকার নারী মামলা করলে তিন কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে এমন আশ্বাস দিয়ে তাদের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্য সৈয়দ কাওছার আহমদ এ ব্যাপারে সিলেটটুডেকে বলেন, আমি খবর পেয়ে পরে সালিশে গিয়েছি। মামলা হলে এলাকাবাসী তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেবেন এমন আশ্বাস দিয়ে ৩ কিশোরকে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আপনার মন্তব্য