১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:১৭
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত বলে পরীক্ষায় ধরা পড়লেও তাকে ভর্তি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তবে এ ব্যাপারে সেই শিক্ষার্থীকে নজরদারিতে রেখে তার পরিবারকে অবহিত করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে তার রিহ্যাবের ও সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবেও বলা জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য।
সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবার প্রথম শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত কি না, তা পরীক্ষা করে তবেই ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাচ্ছে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত রাখতেই তাদের এই উদ্যোগ। ইতোমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শাবিপ্রবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অবিভাবকসহ সচেতন সমাজ।
এ ব্যাপারে উপাচার্য ফরিদ বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত রাখতে চাই। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এখন মাদকের বিষাক্ত কবলে তরুণরা আসক্ত। আমরা ডোপ টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত কি না, তা নির্ণয় করতে চাই। তবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত বলে পরীক্ষায় ধরা পড়লেও তাকে ভর্তি করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে ভর্তি করে নজরদারিতে রাখব। তার পরিবারকে অবহিত করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে তার রিহ্যাবের, সংশোধনের ব্যবস্থা করব।’
উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মূত্র সংগ্রহ করে চারটি পরীক্ষা করে মাদকাসক্ত কি না, তা নির্ণয় করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলর বায়োলজি বিভাগের শিক্ষকরা।’
এ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ মির্জা নুরুন্নবী বলেন, ‘ইয়াবার জন্য এএমপি, মারিজুয়ানার জন্য টিএইচসি, পাথেড্রিনের জন্য ওপিআই এবং স্লিপিং পিলের জন্য বিজেডও টেস্ট করা হচ্ছে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ডোপ টেস্ট’ বাবদ ৩০০ টাকা ও স্বাস্থ্যবীমা বাবদ আরও ২০০ টাকা ফি ধরে গত বছরের তুলনায় এ বছর ভর্তি ফি বাড়ানো হয়েছে ৫০০ টাকা। ফলে ভর্তি ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার টাকা।
প্রসঙ্গত, ১২ নভেম্বর থেকে বিজ্ঞান শাখার ‘বি-১’ ইউনিটের ভর্তির মাধ্যমে এবারের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। ১৭ নভেম্বর সোমবার মানবিক শাখার ‘এ’ ইউনিটের ভর্তির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা। তবে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে পরবর্তী মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থীদের সাক্ষাতকারের জন্য ডাকা হবে।
আপনার মন্তব্য