১১ জুলাই, ২০২৬ ২০:৪২
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ফারজানা আক্তার শিমু (২৩) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মেয়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী রাসেল আহমদ (২৮) ও শাশুড়িকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিহত শিমুর বাড়ি জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের কমলাবাড়ি গ্রামে। প্রায় ছয় মাস আগে একই ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লার মৃত সামসুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের বাবা কামরুজ্জামান সেলিম আহমদ অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে ইফতারের সামগ্রী, সম্প্রতি দেওয়া আম-কাঁঠাল এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই তার মেয়েকে কটূক্তি ও চাপ প্রয়োগ করতেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, গত ৬ জুলাই শিমুকে তার স্বামী ও শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে শিমু অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা করিয়ে গত ১০ জুলাই বিকেলে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেন।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে শিমুর স্বামী রাসেল আহমদ ফোন করে জানান, শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যান।
পরিবারের দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর শিমুকে সেখানে আনা হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জৈন্তাপুর মডেল থানাকে অবহিত করলে পুলিশ হাসপাতালে এবং পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, তাদের জানানো হয়েছে শিমু তার স্বামীর চাচার বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তবে তারা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ নিহতের পরিবারের আনা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাসেল আহমদের বসতঘরের একটি কক্ষে শিমুকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
আপনার মন্তব্য