১২ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৩
নির্ধারিত সময়ের তুমুল লড়াই শেষে ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকেই যাচ্ছে, ঠিক তখনই হুলিয়ান আলভারেজের সেই অবিশ্বাস্য গোল। আর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে সুইসদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতলেন লাউতারো মার্তিনেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-১ ব্যবধানের এক রুদ্ধশ্বাস ও মহাকাব্যিক জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ চারে লিওনেল মেসির দলের মুখোমুখি হবে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড।
কানসাস সিটিতে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। তবে ম্যাচের প্রথম উপহারটি আসে আর্জেন্টিনার ঝুলিতে। খেলার মাত্র ১০ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নিখুঁত এক কর্নার কিক থেকে ডি-বক্সে ভেসে আসা বলে দারুণ এক হেডে সুইস জাল কাঁপান লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার। চলতি বিশ্বকাপে এটিই তাঁর প্রথম গোল। প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ড বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার জমাট রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারেনি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ফলও পায় তারা। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ডান এনদোয়ে চমৎকার এক কোনাকুনি শটে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে পরাস্ত করলে ১-১ সমতায় ফেরে সুইসরা।
তবে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ইউরোপের দলটির। ম্যাচের ৭২ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউল করার ভান (সিমুলেশন) করায় সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে ভিএআর-এর সাহায্যে এমবোলোর ডাইভিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাঁকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।
১ জন কম নিয়ে খেললেও দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে সুইজারল্যান্ড ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়েও সুইস ডিফেন্স ভাঙতে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা। নাটকের আসল অঙ্কটা জমা ছিল ১১২ মিনিটের জন্য। নিকোলাস গঞ্জালেসের পাস থেকে বল পেয়ে বদলি খেলোয়াড় হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ দারুণ বুদ্ধিমত্তায় পাস বাড়ান হুলিয়ান আলভারেজের দিকে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড শরীরী ছন্দে ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দূরহ কোণ থেকে এক বুলেট গতির বাঁকানো শট নেন। সুইস কিপার গ্রেগর কোবেল পুরো ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি। টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলটি করে আর্জেন্টিনাকে উল্লাসে ভাসান ‘স্পাইডার’ আলভারেজ।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (১২০ মিনিটে) ব্যবধান ৩-১ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে থিয়াগো আলমাদা ও লিওনেল মেসির যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হওয়া আক্রমণের প্রথম শটটি সুইস কিপার আটকে দিলেও ফিরতি বল জালে জড়াতে ভুল করেননি লাউতারো। এই গোলের সাথে সাথেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার।
আপনার মন্তব্য