১৭ জুন, ২০১৫ ২০:৩২
কোথাও না থেমে ৫০ পর্যন্ত গুনে যাওয়া, এবার এ সংখ্যার সঙ্গেই মিলিয়ে নেয়া মণিপুরি থিয়েটারের সদস্য জ্যোতি সিনহা ও তার অভিনীত একক নাটক ‘কহে বীরাঙ্গনা’কে। ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই নাটকটির সব প্রদর্শনীই জ্যোতির আলোয় উজ্জ্বল। তার করা একক অভিনয়ই নাটকটিকে, পুরো দলকে দিয়েছে স্বস্তির পূর্ণতা।
পূর্ণতার এ পরশ থেকে জ্যোতিওবা কেন বাদ যাবেন? বলেন, ‘একক অভিনয়ের নাটকে এক টানা ৫০ বার মঞ্চে ওঠা সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার। বিষয়টি আমাকে শিহরিত করে, আমার কাছে এটাকে পুণ্যের মতো মনে হয়। অনেক বড় একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আমার।’
অবশ্য স্বপ্ন পূরণের এ পথও অতটা সহজে এসে জ্যোতির কাছে ধরা দেয়নি। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ অবলম্বনে এ নাটকে অভিনয় করা নিয়ে তাকে অনেকটা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তার ভাষায়, এটা এমন একটা নাটক, যার প্রতিটি জায়গাই তারের মতো বাঁধা, একই সুতায় গাঁথা। যেকোনো একটি ছিঁড়ে গেলেই সমস্যা। এজন্য এতগুলো প্রদর্শনী করার পরও শঙ্কায় ভুগী ‘আমি কি আসলেই উতরে যেতে পারব!’
অন্যদিকে নাটকটিতে কাজ করতে গিয়ে জ্যোতি নাকি খেয়াল করেছেন, এ দেশের নাট্যচর্চায় মধুসূদন দত্তের অবহেলিত হওয়ার বিষয়টি। নজরুল, রবীন্দ্রনাথকে যে জায়গা থেকে গুরুত্ব দেয়া হয়, সেই তুলনায় মধুসূদনকে নিয়ে চর্চা না হওয়ায়ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। মধুসূদনের লেখায় যে অসাধারণ কাব্যিক সৌন্দর্য আছে, সেটিকে খুঁজে বের করা দরকার। তাকে বেশি বেশি মঞ্চে হাজির করাটাও বেশ জরুরি মনে করেন তিনি।
১৯৯৬ সালে মণিপুরি থিয়েটার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ‘আজবপুরের বর্ষবরণ’ নামে দলের দ্বিতীয় প্রযোজনায় রাজকুমারীর ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। এর পর রাজকুমারীর মতো এখনো কাটাচ্ছেন তার নাট্যজীবন। সব মিলিয়ে ৩০টির মতো নাটকে ২০০ বারেরও বেশি মঞ্চে উঠেছেন। ছোটবেলায় বাবার মাধ্যমে গানের হাতেখড়ি। ‘তার ইচ্ছে ছিল আমি গান শিখব। আমারও একটা আগ্রহ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বাবা মারা যাওয়ায় আমাদের সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যায়। শহর থেকে সবাই গ্রামে ফিরে আসি। শুরু হয় জীবনের এক নতুন লড়াই’— বলেন জ্যোতি।
শুধু যে তিনি নিজের জন্যই অভিনয় করেন, তাও কিন্তু নয়। এ লড়াইয়ের পুরোটাই নাকি তার নিজ জাতিসত্তার অস্তিত্বের লড়াই। জ্যোতি স্বপ্ন দেখেন মণিপুরি জাতিসত্তাকে সারা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে।
জ্যোতি বলেন, ‘নাটকেই আমাকে কাজ করতে হবে। নাটক আমার প্রাণের জায়গা, আমার মুক্তির জায়গা। আমার কাছে মনে হয়, সারাটা জীবনই আমি থিয়েটার করে যাব।’ সূত্র : বণিক বার্তা
আপনার মন্তব্য