৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:০৯
কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলে যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেটির উন্নতি হতে সপ্তাহ পেরিয়ে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সপ্তাহের প্রথম ভাগে পানি বেড়ে নেত্রকোনা জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। আর বৃষ্টি কমলে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের (হাওর অঞ্চলে) বর্তমান পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান বৃহস্পতিবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গেল কয়েকদিনে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে অর্থাৎ ভারি থেকে অতিভারি, এই প্রবণতা চলতে পারে ৬ মে পর্যন্ত। এরপর ৭ মে হতে সেটি কমে পরবর্তী তিন দিন অর্থাৎ ১০ মে পর্যন্ত মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।“
এমন পূর্বাভাসের ভিত্তিতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রের বন্যা সম্পর্কিত বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত সোমবার থেকে দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অঞ্চলের ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী, মগরা ও সুতাং নদী প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর প্রভাবে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজমান রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে এসব জেলার হাওরাঞ্চলে অনেক কৃষকের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলা শহরে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে তাকে মাঝারি-ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার হলে ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে; তবে নদীগুলো প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে গত সাত দিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।
একইভাবে আগামী সাত দিন (৩০ এপ্রিল হতে ৭ মে) সামগ্রিকভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পার। এই সাত দিনে স্থানভেদে ১৫০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
এর ফলে এই সাত দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলো (সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস) এবং অন্যান্য উপ-নদীর পানি সমতল সপ্তাহের প্রথম ভাগে বেড়ে নেত্রকোনা জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, বলছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
সেই সঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সপ্তাহের শেষ ভাগে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে আসার ফলে নদীগুলোর পানি কোথাও কোথাও প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার নিচে নেমে আসতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
আপনার মন্তব্য