রিপন দাস, বড়লেখা:

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:২৪

‘অকূলে ভাসাইলাম তরী’

বড়লেখায় দুই দিনব্যাপী নাট্যোৎসব

সন্ধ্যা ৭টা! মৌলভীবাজারের বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তখন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপচে পড়া ভিড়। শহীদ মিনারে শুরু হয় ‘অকূলে ভাসাইলাম তরী’ নাটকের মঞ্চায়ন।

পলাশী যুদ্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতীকায়িত উপস্থাপনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই নাটকে বিশ্বাসঘাতকতা, কলঙ্কজনক ঘটনা, পাকিস্তান আমলের শোষণ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও সমকালীন নানা বিষয়কে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নাটকের নানা বাঁকে কোরিওগ্রাফি ছিল দর্শকদের আকর্ষণ করার মতো। পিনপতন নীরবতায় দর্শকরা উপভোগ করেন ৪০ মিনিটের এই নাটকটি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ‘তারুণ্য নাট্য গোষ্ঠী’ বড়লেখার আয়োজনে দুই দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের সমাপনী দিনে গত শুক্রবার (২৬ মার্চ) মঞ্চস্থ হয় ‘অকূলে ভাসাইলাম তরী’। নাটক মঞ্চস্থ করে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জের ‘দেশ নাট্য গোষ্ঠী’। এটি তাদের ২৯তম প্রদর্শনী।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন হারুন সাঁই, মাখন মিয়া, মুখলিছুর রহমান, কামরুল হাসান, ফখরুল হামিদ, শাহিন আহমেদ, নয়ন পাল, সিরাজুল ইসলাম। মিউজিকে ছিলেন ফারুক দেওয়ান, মিঠুন পাল ও রাজিব আহমেদ।

আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, ‘দেখা হবে নাটকে, কথা হবে মঞ্চে’ এই স্লোগানে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ‘তারুণ্য নাট্যগোষ্ঠী’ বড়লেখা দুই দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের আয়োজন করে। উৎসবের উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারুণ্য নাট্যগোষ্ঠী বড়লেখার সভাপতি বদরুল ইসলাম মনু। উৎসব পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শুভাশিস দে শুভ্র ও সদস্য সচিব হানিফ পারভেজের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজ উদ্দিন, বড়লেখা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, দাসেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপক রঞ্জন দাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নিয়াজ উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল ইসলাম সজল, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর কায়সার পারভেজ প্রমুখ।

প্রথমদিনে ‘বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড’ মঞ্চস্থ করে নাটক ‘ক্ষ্যপা পাগলার প্যাঁচাল’, বড়লেখার তারুণ্য নাট্যগোষ্ঠী মঞ্চস্থ করে ‘হাসির মঞ্চে ফাঁসি’। এছাড়া প্রথমা সংঙ্গীত একাডেমি বড়লেখা ও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন। এরআগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সামপনী দিনে ‘অকুলে ভাসাইলাম তরী’ ছাড়াও মঞ্চস্থ হয় তারুণ্য নাট্য গোষ্ঠী বড়লেখার নাটক ‘আলোর পানে’, নবকলি থিয়েটারের নাটিকা ‘মুক্তির সংগ্রাম’। এছাড়া উদীচী ও আদিবাসি খাসিয়া সম্প্রদায়ের শিল্পীরা নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন।

এদিন প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন আকতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন মীর জাহিদ আহসান, বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, বাংলাদেশ পথনাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন আহমেদ গিয়াস, শাহ নেওয়াজ, বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর, বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, অধ্যক্ষ একে এম হেলাল উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আহাদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি লুৎফুর রহমান চুন্নু প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

দুই দিনব্যাপী এই নাট্যোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মায়াজালে বাঁধা ছিলেন দর্শকেরা।

আপনার মন্তব্য