Advertise

এস এম নাদিম মাহমুদ

০২ এপ্রিল, ২০২০ ১৩:৪৭

কডিড-১৯: ঝুঁকিতে ধূমপায়ীরা!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) বৃদ্ধের পর এবার ঝুঁকির তালিকায় পড়েছে ধূমপায়ীরা। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোল্ড স্প্রি হার্বার ল্যাবরেটরি এবং গুগল ইনকর্পোরেশনের একদল গবেষকদের প্রকাশিত একটি ‘অসম্পাদিত বা নন-পিয়ার রিভিউ’ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রি-প্রিন্ট জার্নাল হিসেবে পরিচিত ‘বায়োর্কাভ’ মঙ্গলবার জমাকৃত Cigarette smoke triggers the expansion of a subpopulation of respiratory epithelial cells that express the SARS-CoV-2 receptor ACE2 শিরোনামের এই গবেষণায় বলা হচ্ছে, সিগারেটের ধোঁয়ায় মানুষের ফুসফুসে SARS-CoV-2 এর গ্রাহক অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম 2 (এসিই 2) এর অস্তিত্ব বা দ্যোতনা অনেক বেশি। যে কারণে, এই ভাইরাসে যারা মারা যাচ্ছেন অথবা নিবিড় পরিচর্যায় মধ্যে থাকছেন তাদের ১২.৩ শতাংশই ধূমপায়ী।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কোল্ড স্প্রিং হার্বারের ফেলো জেসন শেল্টজারের নেতৃত্বে এই গবেষণায় ধূমপায়ীর সাথে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বয়স ও লিঙ্গের বিষয়টিও স্থান পায়।

অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম 2 কী?
SARS-CoV-2 গঠনগতভাবে স্পাইক (S) প্রোটিন, নিউক্লিওক্যাপসিড (N), মেমব্রেন বা ঝিল্লি (M) এবং এনভেলভ (E) প্রোটিন নিয়ে গঠিত।

ভাইরাসটি মূলত এই স্পাইকের মাধ্যমে কোন পোষকের দেহে ঢুকতে পারে। কোষে প্রবেশের জন্য যে গাড়ি বা গ্রাহক হিসেবে কাজ করে Angiotensin converting enzyme 2 (ACE2)। ভাইরাসের স্পাইক যখন গাড়িতে স্পর্শ (যাকে receptor-binding domain বার আরবিডি বলে) করে, সেই স্পর্শিত অংশটি গলে যায়, যাকে গ্লাইকোসাইলেশন বলে, কারণ এই স্পাইক প্রোটিনটির সাথে চিনি বা কার্বোহাইড্রেটের শিকল লেগে থাকে।

মূলত ACE2 মাধ্যমে করোনাভাইরাসে কোষের ভিতর প্রবেশ করে বিভিন্ন অঙ্গতে এদের অভিব্যক্তি বা এক্সপ্রেশন প্রকাশ করে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই এসিই২ মূলত ফুসফুস, কিডনিতে বেশি কার্যকারিতা প্রকাশ করতে পারে। আর সেখানেই ভাইরাসের সংখ্যাধিক্য প্রকাশ পায়।

ধূমপায়ীরা কেন ঝুঁকিতে?
গবেষকরা দাবি করছে, সিগারেট যারা নিয়মিত, তাদের ফুসফুসে এসিই২ মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর তা প্রমাণ করার জন্য তারা প্রথমে ইঁদুরের ফুসফুসে প্রতিদিন ২, ৩, ৪ ঘণ্টা ধরে সিগারেটের ধোঁয়া প্রবেশ করান। এরপর তারা ফুসফুসের ACE2 জিনের এক্সপ্রেশনে দেখেন, যে সিগারেটের ডোজের ভিন্নতায় কোষের ভিতর ACE2 সংখ্যা অধূমপায়ী ইঁদুরের চেয়ে ৮০ শতাংশের বেশি দেখা যাচ্ছে।

পরবর্তীতে গবেষকরা, ধূমপায়ী মানুষের ফুসফুসের বাতাসের থলি বা অ্যালভিওলিতে ফ্রিবওটিক বক্রোসকপি করে দেখেন যে ধূমপায়ীর ফুসফুসে অধূমপায়ীদের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি ACE2 সংখ্যা পাওয়া গিয়েছে।

এছাড়াও তারা দেখছেন, যারা বছরে ৮০ প্যাক সিগারেট গ্রহণ করেন তাদের এই ACE2 প্রোটিনের অভিব্যক্তি প্রায় শতভাগ। আর ধূমপান ছেড়ে দিলেই ৩০ শতাংশ কমে যাচ্ছে।

গবেষকরা মনে করছেন, করোনাভাইরাস ধূমপায়ীদের শ্বসনতন্ত্রে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ফুসফুসে এই জিনের নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্য কোন রোগ যেমন অ্যাজমা কিংবা ফুসফুস ক্যান্সারের সাথে জড়িত নয় বলে তা গবেষণায় উঠে আসে।

এছাড়া তারা দেখেন যে ধূমপান অভ্যস্তদের শ্লেষ্মা-সিক্রেটিং গুবলেট কোষগুলির প্রতিরক্ষামূলক চাপ দেয় বেশি ফলে ACE2 এক্সপ্রেশন বেড়ে যায়। আর, ধূমপান ছাড়ার ফলে ফুসফুসের ACE2 মাত্রা হ্রাস পায়

আশা করি, যারা ধূমপান করছেন, তারা এই সংকটময় সময়ে কিছুটা হলে সর্তক থাকবেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত