০৬ জানুয়ারি, ২০১৬ ২১:২১
যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষিত নতুন ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে ওবামা তার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তুলে ধরেন এবং এতে কংগ্রেসের সাড়া না পেয়ে নিজের নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটানোর পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন।
বিবিসি জানায়, এরই প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান বলেন, ওবামা কংগ্রেসকে এড়িয়ে নির্বাহী ক্ষমতায় যে আইন করছেন তা স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করছে। বিষয়টি আদালতে তোলা হবে।
রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি এ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাতিল করবেন।
সিনেটর টেড ক্রুজ টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগের মত কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। ওবামার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘আপনার বন্দুক ছিনিয়ে নিতে চান ওবামা’ শীর্ষক একটি প্রচারাভিযানও শুরু করেছেন তিনি। টুইটারে তাতে সামিল হওয়ার জন্য একটি লিংকও দেন ক্রুজ।
ওবামার নেওয়া পদক্ষেপ কার্যকর হলে যেসব বিক্রয়কারী অনলাইন অথবা প্রদর্শনীর সময় অস্ত্র বিক্রি করতে চাইবেন তাদের ক্রেতাদের সার্বিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে বাধ্য হবেন। আর মূলত এ কারণেই আগ্নেয়াস্ত্রের সমর্থকেরা এ ধরনের আইনের বিপক্ষে।
ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর ও প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী রিপাবলিকান জেব বুশ বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাতিল করবেন এবং সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী (যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অস্ত্র রাখার অধিকার আছে) অক্ষুণ্ণ রাখবেন।
এর বিপরীতে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ওবামাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে বলেছেন, “আমরা আমাদের পরিবার এবং সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিয়েও দ্বিতীয় সংশোধনী অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি এবং আমাদেরকে তা-ই করতে হবে।”
ওদিকে সবচেয়ে বড় গান লবি গ্রুপ ‘দ্য ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশন’ (এনআরএ) বলেছে, “ওবামার পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকে মৃত্যুহার কমবে না। অপরাধী এবং সন্ত্রাসীদের ওপর নজর না দিয়ে ওবামা আইন মেনে চলা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন।”
“তিনি যা বলছেন এবং করছেন তা এক ধরনের হুমকি এবং এতে স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।”
ওবামা হোয়াইট হাউসে আগ্নেয়াস্ত্রের অপব্যবহারের শিকার যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলশিশুদের পরিবার এবং বন্দুক হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “গান লবি এখন হয়ত কংগ্রেসকে জিম্মি করতে পেরেছে, কিন্তু আমেরিকানদের জিম্মি করতে পারে না।”
অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বন্দুক হামলায় প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ৩০ হাজার মানুষ।
হোয়াইট হাউস অস্ত্র আইন কঠোর করছে এ জল্পনার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র বিক্রি সম্প্রতি বেড়েছে।
আপনার মন্তব্য