সিলেটটুডে ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:৫২

আমাদের এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে:ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিজ সরকারের ব্যাপক প্রশংসা করলেন নিজেই

ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউস থেকে গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেওয়া এক সন্ধ্যাকালীন ভাষণে নিজ সরকারের ১১ মাসের সাফল্য তুলে ধরেন। যা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়েছে।এসময় তিনি ভোক্তাপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য তার ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরিদের দায় চাপান এবং বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

নিজের দল রিপাবলিকান পার্টি আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের পরিস্থিতির মুখে পড়ার প্রস্তুতির মধ্যে এ ভাষণ দিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন ‘বহু সাফল্য’ অর্জন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে গাজায় যুদ্ধের অবসান, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূল করা এবং ৩ হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’।

তিনি আরো জানান, তার প্রশাসন ১০ মাসের মধ্যে আটটি যুদ্ধের অবসান করেছে এবং গাজায় আটক ইসরায়েলিদের জীবিত এবং মৃত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্প আরো বলেন, তার এই মেয়াদ মার্কিন সামরিক শক্তি পুনরুদ্ধার করেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে।’

দেশের ভেতরের দিকে মনোযোগ নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করবেন খুব শিগগিরই। তিনি আগামী বছরের মধ্যে আবাসন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের তৈরি করা মুদ্রাস্ফীতির বিপর্যয়ের কারণেই লাখ লাখ আমেরিকান নিজেদের বাড়ির মালিক হতে পারছেন না।

ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, যা উচ্চ মজুরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। দশ লাখের বেশি মার্কিন পরিষেবা সদস্য ক্রিসমাসের ছুটির আগে আর্থিক বোনাস পাবেন বল্ওে জানান তিনি। অভিবাসন প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত খোলা ছিল, যার ফলে তার ভাষায় ‘লাখ লাখ’ মানুষের ঢল নেমেছিল। ট্রাম্প এ বছর তার প্রশাসনের কাজের প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ কমানো থেকে শুরু করে কিছু পণ্যের দাম কমানোর মতো নানা ক্ষেত্রে তার সরকার কাজ করেছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প বলেছেন, বড় স্বাস্থ্য বীমা কম্পানির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার অভিযোগ, কোম্পানিগুলোর এমন বিপুল সম্পদ করেছে, যা আসলে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। আরেকটি দাবিতে ট্রাম্প সোমালিদের মিনেসোটা রাজ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চুরি করার অভিযোগ করেছেন । এটি বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেবে তার প্রশাসন বলে জানান।

ট্রাম্প আরো বলেন, তিনি ১৮ ট্রিলিয়ন (১৮ লাখ কোটি) ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছেন, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কারখানা চালু করবে। এর পেছনে তাঁর সরকারের শুল্কনীতির ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ভাষণে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী সপ্তাহে তার প্রশাসন ১৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্যকে ১ হাজার ৭৭৬ ডলার করে ‘ওয়ারিয়র ডিভিডেন্ড’ দেবে। পাশাপাশি তিনি রিপাবলিকানদের প্রস্তাব ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর সমর্থন করেন।এতে ভর্তুকি দেওয়ার বদলে সরাসরি জনগণকে নগদ অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; যাতে তাঁরা নিজেরাই স্বাস্থ্যবিমার খরচ মেটাতে পারেন। তবে কংগ্রেসে এ প্রস্তাব এখনো পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই বাড়তি দাম কমাচ্ছি এবং খুব দ্রুতই দাম নিচে নামবে।’

অনেক আমেরিকান যখন অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানাচ্ছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পারিবারিক আর্থিক বিষয় নিয়ে উদ্বেগ এখনও প্রকট। তখন ট্রাম্পের এসব বক্তব্য ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত