২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৫৫
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার নানা অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
চিকিৎসা বিষয়ক প্রবেশিকা পরীক্ষাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ভারতজুড়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগের কথা জানান।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, "জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং দেশবিরোধী কোনো শক্তি যেন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও যৌক্তিক দাবিকে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।"
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। তবে পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বিক্ষোভরত হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও রাজধানীতে আন্দোলনের ব্যাপ্তি কমাতে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অলরেডি ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করেছে এবং দিল্লির ১৮টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে গত সোমবার সংসদে অভিমুখে পদযাত্রার সময় পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ার গাস প্রয়োগ করলে বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হন, যা বিক্ষোভকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তোলে।
উল্লেখ্য, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হতে হয়েছে, যা দেশটির পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আস্থা সংকট তৈরি করে। মূলত এই প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতেই ভারতের যুবসমাজ এই নজিরবিহীন বিক্ষোভে মাঠে নামে।
আপনার মন্তব্য