০৮ মার্চ, ২০২৬ ০১:৩০
ঢাকায় শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে মারধর ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতাসহ দুজন।
শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগ থানার ফটকে এ ঘটনা ঘটে।
থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর এ কর্মসূচির ডাক দেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ কয়েকজন।
এদিন বিকালে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় দুজনকে আটকের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দিয়েছিলেন তারা।
রাত সাড়ে ৯টায় রিকশায় করে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।
এরপর রাত ১০টার দিকে কয়েকজন এসে তাদের মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেলে। এসময় আয়োজকরা বাধা দিলে হাতাহাতি হয়।
হাতাহাতির পর ইমিসহ অন্যরা জাদুঘরের সামনেই থেকে যান। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।
পরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ ও সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের রিকশাটি টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান।
এসময় ইমির সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ছাত্রলীগের তকমা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে থানার ফটকে নিয়ে মারধর করা হয়। মারধর করা হয় ইমিকেও।
পরে সেখান থেকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ধরে তাদের টেনে-হিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
গত সেপ্টেম্বরে ডাকসু নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন ইমি।
রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, "আমরা এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিব।"
ইমি ও মামুনকে আটক রাখা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
অভিযোগের বিষয়ে মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ বলেন, “ইমি-সালেহিনরা ছাত্রলীগের চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসী’। তারা ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তাই আমরা ইমিকে রিকশাসহ টেনে নিয়ে এসেছি; পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। এখন তারা কী করে দেখার বিষয়।”
বিকালে চানখারপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে গিয়ে যে দুজন আটক হন, তাদের একজনের নাম আসিফ আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
একই দিন দুপুরে ঢাকার মগবাজার এলাকায় ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে পদযাত্রা করেন চার তরুণ-তরুণী। তবে তারা কোনো বাধার মুখে পড়েননি বলে আয়োজকদের একজন জানিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের ঘোষণায় স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের প্রতিটি প্রান্তে; ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া সেই ৭ মার্চ এবার এসেছে ভিন্ন বাস্তবতায়।
আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ৭ মার্চ উদ্যাপনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে যে ছেদ পড়ছিল, বিএনপির নতুন সরকারেও তা কাটেনি।
শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালে প্রতিবছরই নানা কর্মসূচিতে পালিত হত জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া দিনটি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
বদলে যাওয়া বাস্তবতায় ঐতিহাসিক এই দিনে কোনো কর্মসূচির কথা শোনা যায়নি। গত বছর মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দলটির নেতাকর্মীরা হয় পলাতক, নয়ত জেলে।
ক্ষমতা হারানোর পর থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ড ফেইসবুকেই সীমাবদ্ধ; ৭ মার্চ ঘিরেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।
আপনার মন্তব্য