সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:০৯

ইলিয়াস আলীর ‘হত্যাকাণ্ড আনপানিশড’ যাবে না: সংসদে স্পিকার

নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বিষয়ে পদক্ষেপ চাইতে তার স্ত্রী, বিএনপির সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত নোটিস দিতে বলেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইলিয়াস আলীর ‘হত্যাকাণ্ড আনপানিশড’ যাবে না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ এ প্রসঙ্গ ওঠার পর জবাব দিতে গিয়ে স্পিকার বলেন, “ইলিয়াস আলী আমাদের অত্যন্ত প্রিয় স্বজন। এই দেশের উঠতি জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড আনপানিশড যাবে না। এ ব্যাপারে এই সংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।”

এর আগে সরকারদলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে ইলিয়াস আলীকে ‘হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়ার’ প্রসঙ্গ তোলেন।

আওয়ামী লীগের শাসন আমলে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানীতে আমতলী এলাকার কাছ থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস।

দুলু বলেন, “ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে বিষ্ফোরক তথ্য, বনানী থেকে তুলে নেওয়া হয় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে, লাশ ফেলা হয় ধলেশ্বরীতে। যে অপরাধ হয়েছে এটা আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধের কাজ। ইলিয়াস আলী আপনার (স্পিকারের) সহকর্মী ছিলেন। আমার বন্ধু ছিলেন। অনেক স্মৃতি জড়িত রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আজকে ইলিয়াস আলী বেঁচে থাকতো তাহলে একসঙ্গে এই সংসদে থাকতাম। যেটুকু জেনেছি, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে তাকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে এই কাজটি করতে পারে। আমার মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত ইতিহাস ফেল করবে।”

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে সরকারদলীয় এ হুইপ বলেন, “শেখ হাসিনা কী ধরনের অভিনেত্রী ছিলেন! তার নির্দেশ ছাড়া যেমন ইলিয়াস আলী গুম হয়নি। তার নির্দেশ ছাড়া তাকে হত্যাও করা হয়নি। তার স্ত্রী, এই সংসদে বসা শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তার (শেখ হাসিনার) সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ইলিয়াসকে খুব তাড়াতাড়ি ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।”

দুলুর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই মাইক বন্ধ হয়ে যায়।

পরে স্পিকার বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয় বিদারক। সারা দেশের অত্যন্ত বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী মাননীয় সংসদ সদস্য এখানে উপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি তিনি সংসদে একবার উত্থাপন করেছেন।”

সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীরকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমি তাহসিনা রুশদীর, মাননীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ জানাবো, এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত নোটিস দিতে পারেন।”

স্পিকার বলেন, “তাছাড়া এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল অনুরূপ কতগুলো ঘটনায় ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

অধিবেশনে সংসদ এলাকায় তাকে ‘জঙ্গি এমপি’ বলা হয়েছে অভিযোগ তুলে প্রতিকার চেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।

পয়েন্ট অব অর্ডারে মাদারীপুর-১ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, “দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আপনার স্ত্রী মরহুমার জানাযায় অংশ নিতে ৩০ মার্চ এসেছিলাম। দক্ষিণ প্লাজা থেকে আমি যখন ভেতরে ঢুকবো, পেছন থেকে কেউ একজন সম্বোধন করছিল, ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে।”

হানজালা বলেন, “জাতীয় সংসদের একজন সংসদ সদস্যকে সংসদের কাছে যখন জঙ্গি বলে সম্বোধন করা হয়…। এটার জন্য সংসদের মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।”

নিজের পোশাক-পরিচ্ছদকে এর কারণ হিসেবে মনে করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি যতটুকু মনে করলাম, আমাকে জঙ্গি বলার কারণ আমার মাথায় একটি পাগড়ি রয়েছে। আমার চলায় সাদা পাঞ্জাবি সুন্নতে রাসুল (স.) রয়েছে। এটার জন্য হয়তো তিনি আমাকে ওইভাবে জঙ্গি বলে সম্বোধন করেছেন। আল্লাহর নবী (স.) সুন্নাত ও এই পোশাক কোনোদিন জঙ্গির অ্যানসেম্বল হতে পারে না।”

তিনি সিসিটিভি ভিডিও দেখে তদন্তের অনুরোধও জানান।

জবাবে স্পিকার বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দু:খজনক। আমি আপনাকে অনুরোধ জানাবো, বিশেষ অধিকার প্রশ্নে আপনি এ ব্যাপারে একটি নোটিস দেন। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করবো।”

‘সংবাদপত্রের রিপোর্টিং নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না’

পরে ব্রাহ্মবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে অভিযোগ করেন, সংসদে উপস্থিত তিনি ও আরও দুই নারী সহকর্মীকে নিয়ে ‘কদাকার-কুৎসিত ভাষায়’ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

রুমিন বলেন, “আজকে ডেইলি স্টারে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুইজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য কদাকার-কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন, কুৎসিত ভাষায় তারা বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আপনার কাছে এই ব্যাপারে প্রতিকার চাইছি। সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি বিষয়টি দেখবেন।”

প্রথমে সংবাদপত্রের রিপোর্টিং নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না বলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।

পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি অনুমতি নিয়ে বলেন, সংসদ সদস্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে নোটিস দিয়ে প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে।

জবাবে স্পিকার বলেন, “পত্রিকার রিপোর্টের ওপর যদি কোনো প্রস্তাব আনেন তাহলে সারাদিন এগুলোই করতে হবে। সংবাদপত্র স্বাধীন। এ বিষয়ে প্রতিকারের জন্য প্রেস কাউন্সিল আছে। তথ্যমন্ত্রী আছেন। কোনো মানহানিকর বা অরুচিকর বক্তব্য যদি কেউ দেয় তাহলে নোটিস দেবেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদের অসীম ক্ষমতা রয়েছে।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত