০৮ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:০৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সহ রাজধানীর চার স্থানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া পল্লবী থানায় একটি ককটেল এবং ভাটারা এলাকায় স্কুল বাসে আগুনে দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, শনিবার গভীর রাতে যাত্রাবাড়ী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এবং বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় সেতু ভবন সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া মিরপুরে পল্লবী মেট্রোস্টেশনের নিচে একটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে।
টিএসসি, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছে, ভিসি চত্বর এবং নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। পরে তাদের শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- নাজমুস সাদ (৩৩), সোহেল রানা (৩৩) ও রেজাউল করিম (৪২)। তাদের মধ্যে নাজমুস সাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ, সোহেলের বাড়ি রাজশাহী ও রেজাউলের বাড়ি নাটোরে।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আট ব্যক্তিদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং সমকালকে বলেন, ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিএসসি এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালানোর সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাদের মারধর করেন। এ ছাড়া আরো একজনে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পল্লবী থানা চত্বরে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, মিরপুর ডিওএইচএস ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল থেকে একটি ককটেল থানার গেটের ভেতরে ছুড়ে মারা যায়। এটি বিস্ফোরিত হয়েছে। কেউ হতাহত হয়নি।
বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও একটি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা নাশকতার উদ্দেশ্যে এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন।
মিন্টো রেডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনা পুলিশ পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। ইতোমধ্যেই এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। জননিরাপত্তার জন্য এবং যাতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সেই ব্যাপারে পুলিশের তরফে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের টহল দল, পিকেট ডিউটি অব্যাহত আছে।
বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, রোববার থানা এলাকার ১০০ ফিটে জলসিড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী বহনের একটি বাস দাঁড়ানো করানো ছিল। সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে এক দুর্বৃত্ত বাসটিতে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফারণের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩ মিনিটে হানিফ ফ্লাইওভার থেকে থানার সামনে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় দুজন দুর্বৃত্ত। তারা মোটরসাইকেলে এসেছিল। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরণ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান তিনি।
একইদিন রাত ১২টা ৩৪ মিনিটে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট এলাকায় দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। পকেট গেটে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে ককটেলগুলো ভেতরে ছুড়ে মারা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের ভয়ভীতি পাওয়ার কারণ নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য