২৬ মে, ২০১৬ ২১:৪৮
‘ঘটনার পর আমি শ্যামল কান্তি ভক্তের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। ভারতের ভেলোরে পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলাম। পকেট খরচের জন্য ২০ হাজার টাকাও দিয়েছি। কিন্তু উনি ফোন করে জানালেন, তার তিন মেয়ের বিয়ে বাবদ ৩০ লাখ করে ৯০ লাখ ও তাকে আরও ১০ লাখ মোট এক কোটি টাকা দিতে হবে। এ প্রস্তাব পাওয়ার পর থেকেই আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি।'
বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়ের আয়োজন করে এমনটিই বললেন জাপার সাংসদ সেলিম ওসমান। নামে মতবিনিময় সভা হলেও সেখানে সেলিম ওসমানই ছিলেন বক্তা। তিনি একাই বলে গেছেন তার কথা। এই সভায় উপস্থিত বেশিরভাগই ছিলেন তার দলের নেতাকর্মী। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মীদের এতে অংশ নিয়ে সেলিমের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রনালয় গঠিত তদন্ত কমিটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কোন অভিযোগ না পেলেও সেদিনের ঘটনায় আবারও আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়ে সেলিম বলেন, " আমি দুঃখিত ও লজ্জিত। কিন্তু পেছনের ঘটনা কেউ প্রকাশ করেনি। শিক্ষককে যখন আমি জনরোষ থেকে রক্ষা করেছিলাম তখন ওই শিক্ষক নিজেই অবস্থা থেকে রক্ষার জন্য আমাকে অনুরোধ করেছিল। আমি সে কাজটিই করেছি। সেই শিক্ষককে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুনর্বহাল করেছে তাতে আমার কোনও আপত্তি নাই।’
তিনি বলেন, ‘এখনও পঞ্চায়েত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা রয়েছে। বন্দরের ঘটনায় স্থানীয় সবাই আমাকে চাপ দিয়েছিল। সে কারণে আমি একজন নাস্তিকের বিচার করেছি। এ বিচারের জন্য যদি আমাকে ফাঁসির কাষ্ঠেও যেতে হয় তাহলেও আমি যেতে প্রস্তুত। "
কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ করে কেঁদে ফেলেন তিনি, তখন বলেন, ‘১৩ মে রাতে আমার থাইল্যান্ড যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেতে পারি নাই। আমার ওষুধ শেষ, মেডিক্যাল চেকআপ করানো প্রয়োজন, করতে পারছি না। আমি জমজমের পানি খেয়ে ওষুধের কাজ চালাচ্ছি। যতোদিন পর্যন্ত বন্দরের ঘটনার পরিপূর্ণ সুরাহা না হবে ততদিন পর্যন্ত আমি জমজমের পানি খেয়েই ওষুধের কাজটি চালাবো।’
পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মঙ্গলবারই আমার সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান ডেকে বললেন ‘সেলিম তো আল্লাহর ওলি হয়ে গেছো। দেশের কোটি কোটি মানুষ তোমার জন্য দোয়া করছে। সংবাদ সম্মেলন করে কী হবে।’
বৃহস্পতিবারই শিক্ষা মন্ত্রনালয় গঠিত তদন্ত কমিটি এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উল্টো শিক্ষককে জোর করে পদত্যাগপত্র সই করানোর অভিযোগ উঠে আসে। যে ছাত্রের বরাত দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সেই ছাত্র একেক সময় একেক কথা বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি।
ত ১৩ মে ধর্ম অবমাননার গুজব রটিয়ে বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে নিজে নির্দেশ দিয়ে লাঞ্ছিত করেন সাংসদ সেলিম ওসমান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ হয়। এসবের মধ্যেই শিক্ষককে উল্টো বরখাস্ত করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী সেই বিদ্যালয় কমিটিকেই বাতিল করে শিক্ষককে পুর্নবহালের ঘোষণা দেন। এরপর শিক্ষকের শাস্তি চেয়ে হেফাজতে ইসলাম সমাবেশ করে সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়। যদিও সেই আল্টিমেটাম থেকে পিছু হটে তারা।
আপনার মন্তব্য