নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ মে, ২০১৬ ১৬:৫৭

‘শখের বশে’ মার্সিডিজে ভুল স্টিকার লাগানোর খেসারত!

শখের বশে বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ির মডেল পরিবর্তন করে হয়রানির শিকার হয়েছেন সিলেটের এক ব্যবসায়ী। শুল্ক গোয়েন্দাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ আর তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

জানা যায়, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সম্প্রতি সারাদেশে শুল্কফাঁকি দিয়ে কার্নেট সুবিধায় আনা গাড়ি জব্দ করা শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে সিলেট নগরীর এক তরুণ ব্যবসায়ীর ই-৫০০ মডেলের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িটিকে নজরদারি শুরু করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। গাড়িটির তথ্যও সংগ্রহ করতে থাকেন তারা। বিআরটিএ ও কাস্টমস থেকে শুল্ক গোয়েন্দাদের পাওয়া তথ্য আর গাড়ির মডেলের তথ্যে পাওয়া যায় ব্যাপক গরমিল। এরপর ডেকে পাঠানো হয় গাড়ির মালিককে।

গাড়িটির মালিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) পড়াশোনার জন্য বেশ কিছুদিন বিদেশ ছিলেন। এখন দেশে ফিরে পেট্রোল পাম্পের ব্যবসার সাথে জড়িত।

গত রোববার (২৯ মে) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয় এই তরুণ ব্যবসায়ীকে।

শুল্ক গোয়েন্দার ডাকে সব কাগজপত্র নিয়ে হাজির হলেন ব্যবসায়ী। এসময় দেখা যায়, বিআরটিএ ও কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্য আর ব্যবসায়ীর কাগজের সঙ্গে বেশ গরমিল। বিলাসবহুল গাড়ির গায়ে মার্সিডিজ বেঞ্জ ই-৫০০ মডেলের স্টিকার লাগানো।

ই-৫০০ মডেল হলে সিসি ৫ হাজার, শুল্ক ৮৬১ শতাংশ। শুল্কসহ গাড়িটির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় তিন কোটি টাকা। কিন্তু বিআরটিএ ও কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি আমদানি করেছে রেনকম মটরস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। গাড়িটি ই-২০০ মডেলের, ২ হাজার সিসির ও ২০০৬ মডেলের। যার মূল্য শুল্কসহ ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা।

এই দুই রকমের তথ্যে বিপাকে পড়েন গোয়েন্তদা কর্মকর্তরা। শেষমেষ জিজ্ঞাসা করা হল সেই তরুণ ব্যবসায়ীকে।

সেই ব্যবসায়ী গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানান,‘মাত্র আট মাস আগে গাড়িটি তিনি কিনেছেন। এর আগে দু’হাত বদল হয়ে তার কাছে এসেছে। কাগজপত্রে কোনো সমস্যা নেই’। তিনি বলেন, ‘গাড়িটি আমি বেশি ব্যবহার করি না, ছোট ভাই করেন। বিআরটিএ ও কাস্টমস রেকর্ড, গাড়ির ভেতরের ইঞ্জিন, চেসিস সব তো ঠিক আছে’।

তিনি জানান, তার ছোট ভাই গাড়িটি ব্যবহার করেন। বন্ধুদের কাছে শুনেছেন ই-২০০ মডেল নাকি ওল্ড মডেল। ই-৫০০ লেটেস্ট মডেল। তাই স্টিকারে ই-২০০ মডেলের জায়গায় ই-৫০০ মডেল লাগিয়ে দিয়েছেন।

ওই ব্যবসায়ী আরো জানান, ‘ই-৫০০ মডেল সাম্প্রতিক (২০১২-১৩ সালের) ও উচ্চ সিসির। বন্ধুদের দৃষ্টি কাড়তে কেবল শখের বশবর্তী হয়ে ছোট ভাইয়ের এমন কান্ড করেছেন। এজন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন ওই ব্যবসায়ী।

এ ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রভাত সিংহ জানান, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর কার্নেট ও শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করা প্রায় তিনশ’ গাড়ি নজরদারিতে রেখেছে। বেশ কিছু বিলাসবহুল গাড়ি জব্দও করেছে। সিলেট অফিসও কয়েকটি গাড়ি জব্দ করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই ওই মার্সিডিজ গাড়ির মালিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তার কাগজপত্র ঠিক আছে। কেবল স্টিকারে ঝামেলা ছিলো।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত