সিলেটটুডে ডেস্ক

৩০ মে, ২০১৬ ২০:২৯

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন : ঘটনার দিনেই ৫ কেজি সুতা ও প্লাস্টিকের বস্তা কেনেন র‍্যাব সদস্যরা

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাবা ও মেয়েসহ ৬জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে তাদের দোকান থেকে সাতজনকে অপহরণের পর শরীরে ইট বাঁধতে ব্যবহৃত রশি ও প্লাস্টিকের বস্তা ক্রয় করা হয়েছিল।


সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে গ্রেফতারকৃত নূর হোসেনসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে ওই ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ নিয়ে ৬২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।


শুনানি শেষে আগামী ৬ জুন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।


নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার সাত খুনের ঘটনায় ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাবেক মুখ্য বিচারিক হাকিম যাবিদ হোসেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলেজ ছাত্রী রাবেয়া আক্তার আঁখি ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জের সোনা মিয়া মার্কেটের রশি বিক্রেতা মতিন হাওলাদার, প্লাস্টিকের বস্তা বিক্রেতা শাহজাহান ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোয়াজ্জেন হোসেন।

এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাত খুনের ঘটনার দিনই র‌্যাব সদস্যরা আদমজী সোনা মিয়া মার্কেটের মতিন হাওলাদারের অনিক এন্টারপ্রাইজ দোকান থেকে ৫ কেজি সুতা ও শাহজাহানের দোকান থেকে প্লাস্টিকের বস্তা ক্রয় করেন।

পরে সাতজনের মৃতদেহ প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাবেয়া আক্তার আঁখি জানান, তিনি ওইদিন নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে তার বাবা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মটরসাইকেলে করে বন্দরে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে পৌঁছলে কয়েকজন ব্যক্তি খুব সম্ভবত তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য তাদের মটরসাইকেল থামার ইশারা দেয়। তারা থামলে তাদের পরিচয় জানতে চান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিচয় দিলে নিহতদের পরিবারের কেউ না হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় একজন অফিসার তার বাবাকে বলেন, ‘যা বেটা ফুট, যা।’

সাত খুনের পর ওই সময়ের মুখ্য বিচারিক হাকিম যাবিদ হোসেনের আদালতে একজন আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। সে তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

জানা গেছে, সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল হলেন নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা ও অপর বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলো ১২৭ জন করে। একারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একই সঙ্গে দুই মামলায় জেরা করা হয়।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনও ১২ জন পলাতক রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত