০৪ আগস্ট, ২০১৬ ১৪:১৭
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। দুজনকে ৫৪ ধারায় আটকের পর কোর্টে তুলে ১০ দিনের রিমান্ডও চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান।
তিনি জানান, তাহমিদকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ও হাসনাতকে গুলশান এলাকা থেকে বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায় হাসনাত জঙ্গিদের সাথে করে হাঁটছিলেন এবং নিশ্চিন্তে সিগারেট ফুঁকছিলেন। তার সে সময়কার ভূমিকা নিয়ে নানা রকম আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হয়।
এর আগে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া হাসনাত ও তাহমিদের ব্যাপারে বলেছিলেন তারা পুলিশের নজরদারিতে আছেন।
২ জুলাই সকালে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি থেকে ‘উদ্ধার করে’ পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর থেকে তারা আর বাড়ি ফেরেননি বলে পরিবার এতোদিন দাবি করে আসছিল।
পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গত মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, গুলশানের ঘটনায় উদ্ধার পাওয়া হাসনাত করিম ‘সন্দেহমুক্ত নন’।
“ওই ঘটনার পূর্বে তার যে রেকর্ড এবং ওই ঘটনার দিন তার যে আচরণ- সবগুলো সন্দেহের মধ্যে আছে, সে সন্দেহমুক্ত নয়। তার বিরুদ্ধে কংক্রিট এভিডেন্স আমরা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। সে আমাদের নলেজে আছে। যখনই আমাদের মনে হবে তাকে কাস্টডিতে নেওয়া দরকার তখন আমরা নিতে পারব।”
গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের আর্টিজানে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সে সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরের দিন সকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন পাঁচজঙ্গিসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়। আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করে পাঁচ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করলেও পুলিশ দেশীয় জঙ্গি দল জেএমবিকে গুলশানের ঘটনার জন্য দায়ী করে আসছে।
অভিযান শেষে উদ্ধার ১৩ জনসহ ৩২ জনকে নেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে। জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও হাসনাত ও তাহমিদকে ফিরে না পাওয়ার কথা জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
সারারাত জঙ্গিদের কব্জায় থেকে সকালে সুস্থভাবেই ফিরে আসেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসনাত করিম ও কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র তাহমিদ হাসিব খান।
আপনার মন্তব্য