০৪ আগস্ট, ২০১৬ ১৪:২৮
জনরোষ রেখে বাঁচাতে শিক্ষককে কানধরে উঠবস করিয়েছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে এক দাবি করার পরেও পুলিশি প্রতিবেদনে এমন ঘটনায় ওই সাংসদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু এ তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
গত ৮ মে শ্রেণিকক্ষে রিফাত হাসান নামে এক ছাত্রকে মারধর করেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে গত ১৩ মে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ডাকা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান শিক্ষককে মারধর করে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাকে কান ধরিয়ে উঠবস করান স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
দেশজুড়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কমিটির ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানায়, প্রধান শিক্ষক তাঁর পদে বহাল আছেন। নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেয়ায় ওই স্কুল কমিটিকেও মন্ত্রণালয় বাতিল ঘোষণা করে।
পরে ওই রাতেই শ্যামল কান্তি ভক্তকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরদিন শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে হাসপাতালের ২০নং ওয়ার্ডে শয্যা দিলেও পরে উন্নত কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ডা. শফিউল আজমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২০ মে পুলিশের প্রহরায় শ্যামল কান্তি ভক্তকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের অধীনেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ দেয়ার পর ওইদিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের নগর খানপুরে মোকরবা সড়কের বাসায় উঠেন। সেই থেকে তিনি দীর্ঘদিন পুলিশি নিরাপত্তায় ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামীম ওসমানের ভাই।
আপনার মন্তব্য