সিলেটটুডে ডেস্ক

১০ আগস্ট, ২০১৬ ১৭:০৮

শিক্ষক লাঞ্ছনা: পুলিশি প্রতিবেদন গ্রহণ করেন নি হাইকোর্ট

নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদন গ্রহণ করেন নি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (১০ আগস্ট) দাখিল করা প্রতিবেদনগুলোর ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তিন মাস আগের ওই ঘটনা তদন্ত করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততা পায়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ। শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনার পর বন্দর থানায় করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আনা হয়।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন আইনগত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তাও জানাতে বলা হয়। ওই নির্দেশ অনুযায়ী গত ২৯ মে প্রশাসনের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

গত ৯ জুন হাইকোর্টে জমা দেওয়া পুলিশ সুপার ও ওসির অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে এর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এরপর হাইকোর্ট ৪ আগস্টের মধ্যে তাদের হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

ওই নির্দেশ অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা পুলিশ শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ওই সব জবানবন্দি পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয়েছে যে, কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় এমপি সেলিম ওসমানের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত