১০ আগস্ট, ২০১৬ ১৭:৫৫
গুলশান হামলা ও শোলাকিয়ায় ঈদগাহের অদূরে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ আগস্ট) পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের হাতে এই অর্থ তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল একেএম শহীদুল হক। গুলশান এবং কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতস্থলে সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলাকালে নিহত চার পুলিশ সদস্যের পরিবারবর্গকে ৭০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
গত ১জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মি উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল করিম এবং ডিএমপির বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. সালাউদ্দিন খান নিহত হন।
এছাড়া, গত ৭জুলাই পবিত্র ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতস্থলের নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের হামলায় কিশোরগঞ্জ জেলার কনস্টবল আনছারুল হক ও কনস্টবল জহিরুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।
নিহত সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল করিমের মাতা করিমন নেছাকে ৫ লাখ ও তার স্ত্রী উম্মে সালমাকে পনের লাখ, ইন্সপেক্টর মো. সালাহ উদ্দিন খানের স্ত্রী রেমকিমকে ২০ লাখ টাকা, কনস্টেবল মো. আনছারুল হক এর স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগমকে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ সাড়ে সাত লাখ ও তার মাতা রাবেয়া আক্তারকে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ সাড়ে সাত লাখ টাকা এবং কনস্টবল মো. জহিরুল ইসলামের মাতা জুবেদা খাতুনকে ১৫ লাখ টাকাসহ মোট ৭০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।
আইজিপি তাদের হাতে অনুদানকৃত অর্থ ও সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। এছাড়া, মধুমতি ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে।
মরহুম মো. রবিউল করিম ১৯৮৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানার কাটিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৩০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১২ সালের জুন মাসে পুলিশ বাহিনীতে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন। মৃত্যুকালে তিনি মাতা, স্ত্রী উম্মে সালমা, এক পূত্র (৮), এক কন্যা (১২ দিন) এবং বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
মরহুম মো. সালাউদ্দিন খান ১৯৬৭ সালে গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার ব্যাংকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯১ সালের আগস্ট মাসে এসআই (নিরস্ত্র) পদে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে তিনি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি স্ত্রী রেমকিম, এক কন্যা (১৪)ও এক পূত্র (৬) সন্তানসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
মরহুম আনছারুল হক ১৯৮৭ সালে নেত্রকোনা জেলার মদন থানার দৌলতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৬সালে অক্টোবর মাসে কনস্টবল পদে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। মৃত্যুকালে তিনি মাতা রাবেয়া আক্তার ও স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগমসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
মরহুম জহিরুল ইসলাম ১৯৯২ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধা মাতা জুবেদা খাতুনসহ অনেক আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ ও নিহতদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য