১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:২৩
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ‘নিরপেক্ষ বিশ্লেষকের’ নামে বিতর্কিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সরকার প্রচার চালাচ্ছে এমন অভিযোগ এনেছেন নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি’র আহ্বায়ক সুলতানা কামাল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করে বলেন, রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না বলে সরকারি ভাষ্য ঠিক নয়।
বুধবার (১০ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল আরও বলেন, “জনমত ও বিজ্ঞানকে উপেক্ষা করে সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর ও অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য অগ্রহণযোগ্য ও অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করে যাচ্ছে সরকার।”
সুন্দরবনের কাছে রামপাল থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত কমিটির আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে বাগেরহাটের রামপালে ১৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জন্য হুমকি হবে বলে দাবি করে আসছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও রাজনৈতিক দল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুন্দরবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে এবং দূষণ কমাতে এতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।
এই প্রকল্পের বিরোধিতার জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি বলেন, “মৈত্রী সুপার থারমাল পাওয়ার প্রজেক্ট নিয়ে একটি মহল ও কতিপয় ব্যক্তি বা সংগঠন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে; যা ভিত্তিহীন, দেশের স্বার্থবিরোধী ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস ছাড়া কিছু নয়।”
মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, “কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দেশের জনগণের ক্ষতির চেয়ে লাভ বেশি হলে আমরা এর বিরোধী নই। তা করলে যদি জনগণের ক্ষতির চেয়ে লাভ হয়, তবে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।
“কিন্তু সেই প্রকল্প সুন্দরবনের পাশে রামপালে করলে জনগণ তথা দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং সুন্দরবন বাঁচানোর স্বার্থে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পটি অবলম্বে বাতিল করে জনদাবি মেনে নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার দাবি করছি।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল অভিযোগ করেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ‘নিরপেক্ষ বিশ্লেষকের’ নামে বিতর্কিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।
“সুন্দরবন ধ্বংস করে এই রামপাল প্রকল্প নির্মাণ প্রশ্নে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের অযৌক্তিক অবস্থান দুই দেশ ও সারাবিশ্বের সকল সচেতন ও যুক্তবান মানুষের জন্যই একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এমনিতেই পরিবেশগত দূষণ বা ক্লাইমেট চেঞ্জের দিক থেকে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এর মধ্যে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে পরিবেশ বিনষ্টের মাধ্যমে কোনো উন্নয়ন কখনও ভালো হতে পারে না।”
আপনার মন্তব্য