সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ আগস্ট, ২০১৬ ০৯:০৮

নিজেদের ঘরে ভাই-বোনের রক্তাক্ত লাশ, মা নিখোঁজ

রাজধানীর বাসাবোয় এক বাসার মধ্যে দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নির্মম এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত শিশুরা হল- হুমায়রা বিনতে মাহবুব (৬) ও মাশরাফি ইবনে মাহবুব (৭)। তারা আপন ভাইবোন। দুইজনের লাশ দুই ঘরে পড়েছিল। তারা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করত।

পুলিশের ধারণা, তাদের মা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। ঘটনার পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ও র‌্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনস্থলে যান। সিআইডির ক্রাইমসিন আলামত সংগ্রহ করে।

নিহতদের বাবা মাহবুবুর রহমান ওয়াসার কম্পিউটার অপারেটর। বর্তমানে তিনি এলজিইডিতে ডেপুটিশনে আছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, উত্তর বাসাবোর ওই বাড়িটির হোল্ডিং নম্বর ১৫৭/২। বাড়ির নাম ‘ষড়ঋতু’। এই বাড়ির সপ্তম তলায় প্রায় আট মাস ভাড়া থাকেন মাহবুবুর রহমান। স্ত্রী ও দুই সন্তান হুমায়রা এবং মাশরাফি নিয়ে তার সংসার। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদ নগরে।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর মাহবুবুর রহমান বাসাবোর বাসার বাইরে যান। এসময়  দুই সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী তানজিন বাসায় ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাহবুব বাসায় গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে একটি কক্ষে ছেলের গলা কাটা লাশ দেখেন তিনি। ছেলের লাশ দেখে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পাশের রুমের মেঝেতেও একইভাবে মেয়ের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। রক্তে ঘরের মেঝে ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা। দুই সন্তানের লাশ দেখে তিনি নিথর হয়ে যান। এ সময় সন্তানদের মাকে তিনি ঘরে পাননি।

নিহতদের ফুফু লায়লা নূর জানান, রাতে মাহবুব তাকে ফোন দিয়ে সন্তানদের হত্যাকাণ্ডের খবর জানান। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে নারায়নগঞ্জের বাসা থেকে দ্রুত উত্তর বাসাবো ছুটে আসেন লায়লা নুর।

তিনি বলেন, তার ভাবি তানজিন মাঝেমধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। সেসময় ঠিকমতো রান্না করেন না। কারো সঙ্গে কথাও বলেন না। আচরণ পাল্টে যায়। কয়েকদিন এ অবস্থা থাকে পরবর্তীতে আবার ভালো হয়ে যান।

ঢাকা মেট্টোপলিটন পুর্লিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান বলেন, সন্ধ্যায় বাচ্চাদের বাবা বাসা থেকে বাইরে যান। সেসময় স্ত্রী ও দুই সন্তান বাসায় ছিল। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। নিহতদের মাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে মা দুই সন্তানকে হত্যা করে থাকতে পারে।

রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই বাসাতেই লাশ ছিল। সিআইডি আলামত সংগ্রহ করছিল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত