১৩ আগস্ট, ২০১৬ ১২:৩৯
বানের পানিতে ভারতের আসাম থেকে ৪৫ দিন আগে বাংলাদেশে ভেসে আসা বুনোহাতিটির পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে উদ্ধারকারী দলের সতর্ক অবস্থানের পরও রশি ছিঁড়ে ছুটে গেছে 'বঙ্গবাহাদুর' নাম দেয়া হাতিটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় চার টন ওজনের হাতিটিকে অজ্ঞান করা হয় জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নে। সেখানে একটি আমগাছের সঙ্গে চার পায়ে রশি ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় হাতিটিকে। কিন্তু, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাতিটি রশি ছিঁড়ে একটি জলাশয়ে চলে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এই মুহূর্তে হাতিটি জলাশয়ে অবস্থান করছে বলে জানান তারা। জনতার ভিড়ে অন্যত্র যেতে পারছে না এটি।
এর আগে শুক্রবার আরও দুই-তিন দিন বেঁধে রাখার পর স্বাভাবিক আচরণ করলে বন্যহাতিটিকে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান উদ্ধারকারীরা।
৪৫ দিন আগে হাতিটি বানের পানিতে আসাম থেকে ভেসে কুড়িগ্রাম হয়ে সরিষাবাড়ি আসে। গত ১৬ দিন ধরে এটি উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নে অবস্থান করছে। কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এটিকে ক্যাপসুল পাউডার প্রজেক্টর গান দিয়ে মেটাল ডার্ট ছুড়ে অজ্ঞান করা সম্ভব হয়। এর আগে বুধবার প্রথমে পল্গাস্টিক ডার্ট ছুড়লে তা হাতির গায়ে লেগে বেঁকে যায়।
বৃহস্পতিবার মেটাল ডার্টটি হাতির ডান পাঁজরে বিদ্ধ হলে এটি কয়ড়া গ্রামের সালামের বাড়ির পাশে ডোবায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় এটিকে পায়ে রশি বেঁধে টেনে শুকনো জায়গায় তোলা হয়।
তারপর হাতির দুটি করে পা একসঙ্গে রশি ও শিকল দিয়ে বেঁধে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। বিকেলেই হাতিটির জ্ঞান ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তারপরও জ্ঞান না ফেরায় কক্সবাজার সাফারি পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন এটিকে নিউ হামবেল ইনজেকশন দেন। সেই সঙ্গে প্রচুর স্যালাইন ও গ্লুকোজ খাওয়ানো হয়। এতে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এটির জ্ঞান ফিরে আসে। সামনের পায়ের শিকল খুলে দেওয়ায় হাতিটি উঠে দাঁড়ায়।
বুনোহাতিটি গত ২৮ জুন বানের পানিতে ভেসে কুড়িগ্রামের রৌমারী, গাইবান্ধা, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর হয়ে গত ২৭ জুলাই থেকে সরিষাবাড়ির কামরাবাদ ইউনিয়নে অবস্থান করছে। প্রাথমিক উদ্ধার অভিযান সফল হওয়ার পর হাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে 'বঙ্গবাহাদুর'।
আপনার মন্তব্য