১৮ আগস্ট, ২০১৬ ০১:৫০
বেসরকারি মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নারী জঙ্গি গ্রেপ্তারের পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইউজিসির একটি দল জটিকা সফরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলশান ক্যাম্পাসে গিয়ে তাদের লাইব্রেরীতে উস্কানিমূলক বইয়ের সন্ধান পেয়েছে।
ইউজিসির উপ-পরিচালক জেসমিন পারভিনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল বুধবার দুপুরে মানারাতের লাইব্রেরীতে গিয়ে দেখতে পায় সেখানকার অধিকাংশ বই ধর্মীয় উস্কানিমূলক। বেশিরভাগ ইসলামি বইয়ের লেখক জামায়াতে ইসলামির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব বই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসের বাইরে রাখা হলেও সেখানে নেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কিত কোন বই।
ইউজিসির উপ-পরিচালক জেসমিন পারভিন সাংবাদিকদের বলেন, "এখানকার বেশিরভাগ বই জঙ্গিবাদে উৎসাহিত করার মত, আমরা আজ স্বচক্ষে এসে তদন্ত করে গেলাম। এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন আমরা মঞ্জুরি কমিশনে দাখিল করব।"
এ ব্যাপারে মানারাতের উপাচার্য ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, "মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের এখানে ধর্মীয় ৩টি বই পড়া বাধ্যতামূলক, এসব ছাড়া অন্য কোন ইসলামি বই লাইব্রেরিতে থাকার কথা নয়।"
তিনি বলেন, "আমাদের ৩ ছাত্র জঙ্গিবাদে জড়িত থাকায় আমরা মর্মাহত, এদের বহিষ্কার করা হয়েছে।"
জানা যায়, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকরা জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী। অধিকাংশ শিক্ষকও একই মতাদর্শ ধারন করেন। মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ছিলেন।
২০০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে মানারাত। এর দুই যুগ আগে থেকে এটি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় ছিল।
গত রবিবার (১৪ আগস্ট) গভীর রাতে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়ে গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার নিজ বাসা থেকে মানারাতের ছাত্রী আকলিমা রহমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেফতারের সময় তার মোবাইল ফোনে জঙ্গিবাদ ও জিহাদ-সংক্রান্ত বিপুল তথ্য পাওয়া যায় । আকলিমা দেড় বছর ধরে জিহাদি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। পরে তাঁর দেয়া তথ্য থেকে মৌ ও মেঘলা নামে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই ছাত্রীকে আটক করা হয়। একই সূত্রে আটক করা হয় ঐশী নামের ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক এক ছাত্রীকে।
আপনার মন্তব্য