অনলাইন ডেস্ক

২০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:৩৭

বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকের অবস্থানে উন্নতি, স্কোরে অবনতি বাংলাদেশের

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক ২০১৬-তে ১২৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১১৭তম হয়েছে। যদিও ২০১৫ সালে ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৯তম। উদ্ভাবনে একটি দেশের সক্ষমতা ও সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এ সূচক তৈরি করা হয়। এতে গত বছর বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ছিল ২৩.৭ পয়েন্ট। এ বছর তা কমে হয়েছে ২২.৯ পয়েন্ট। সে হিসেবে বাংলাদেশ পিছিয়েছে।

‘উইনিং দ্য গ্লোবাল ইনোভেশন’ শিরোনামে গত সোমবার বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক (জিআইআই) প্রকাশ করে যৌথভাবে কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ইনসিড, ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশন (উইপো) এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি।
প্রতিবেদনে উদ্ভাবনে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে বিভিন্ন খাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবসম্পদ ও গবেষণায় বাংলাদেশ মাত্র ১২.৪ পয়েন্ট পেয়ে ১২৪তম অবস্থানে রয়েছে। সৃজনশীল আউটপুটে বাংলাদেশের অবস্থান ১২১তম, প্রাপ্ত স্কোর ১৫.১ পয়েন্ট।

প্রতিষ্ঠানের দিক থেকে ১১৮তম, প্রাপ্ত স্কোর ৪৩.৩ পয়েন্ট। জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পেয়েছে ১৬.৩ পয়েন্ট, অবস্থান ১১১তম। ব্যবসায়িক অত্যাধুনিকতায় বাংলাদেশে পেয়েছে ১৩.১ পয়েন্ট, অবস্থান ১১০তম।

অবকাঠামো সক্ষমতায় প্রাপ্ত স্কোর ৩০.৭ পয়েন্ট, অবস্থান ১০৫তম এবং বাজার অত্যাধুনিকতায় বাংলাদেশ ৪০.৫ পয়েন্ট পেয়ে ৮৩তম অবস্থানে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৩৩.৬১ স্কোর নিয়ে ৬৬তম অবস্থানে রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ২৮.৯২ স্কোর নিয়ে ৯১তম অবস্থানে রয়েছে। ভুটান ২৭.৮৮ স্কোর নিয়ে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, নেপাল ২৩.১৩ স্কোর নিয়ে ১১৫তম এবং পাকিস্তান ২২.৬৩ স্কোর নিয়ে ১১৯তম অবস্থানে রয়েছে। সে হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ শুধু পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ চীন ৫০.৫৭ স্কোর নিয়ে ২৫তম অবস্থানে রয়েছে।

২০১৬ সালের জিআইআই সূচকের শীর্ষ দশে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার মান, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক পেটেন্ট আবেদনের সংখ্যা বিচারে এ দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে। তবে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এখনো স্পষ্ট পার্থক্য রয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও উদ্ভাবনে এগিয়ে রয়েছে ইউরোপ। বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক ২০১৬-তে শীর্ষ ২৫ দেশের মধ্যে ১৫টিই ইউরোপের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও উন্নত অবকাঠামো ইউরোপকে এগিয়ে রেখেছে। তবে ব্যবসায় আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে ইউরোপকে আরো এগোতে হবে। ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) ব্যয় বার্ষিক ৭ শতাংশ হারে বেড়েছে।

বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর থেকে আরঅ্যান্ডটি বরাদ্দ কমে আসছে।

উইপোর মহাপরিচালক ফ্র্যান্সিস গারি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে উদ্ভাবনে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে উদ্ভাবনে এগিয়ে রয়েছে চীন, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, কলম্বিয়া ও ইউক্রেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত