সিলেটটুডে ডেস্ক

২৫ আগস্ট, ২০১৬ ০৩:১২

রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র নিয়ে কথাযুদ্ধে আওয়ামী লীগ- বিএনপি

রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র বিষয়ে কথাযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন বিষয়ে তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করার পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আওয়ামী লীগও।

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গণবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী উল্লেখ করে এ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর বিএনপি চেয়ারপারসনের এ অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, জনগণের কাছে যেতে এবং ভারতবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করতেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলছেন।

বুধবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হানিফ পাল্টাপাল্টি এসব মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আরো অনেক জায়গা আছে, কিন্তু সুন্দরবন একটাই।

ভারত তার নিজের দেশে এই ধরনের প্রকল্প অনুমোদন না দিলেও ‘সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক স্বার্থে’ ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি সুন্দরবনের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। আর এতে ভারতেরই লাভ হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এর (প্রকল্পের) ১৫ শতাংশ অর্থের জোগান দেবে বাংলাদেশের পিডিবি, ১৫ শতাংশ ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি, বাকি ৭০ শতাংশ ব্যাংকঋণ নেওয়া হবে।

কোম্পানি বন্ধ হলে বা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে পুরো ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।’

‘উৎপাদিত বিদ্যুৎ পিডিবি কিনবে। আর নিট যে লাভ হবে তা ৫০ শতাংশ হারে পিডিবি ও এনটিপিসির মধ্যে ভাগ হবে। কিন্তু ১০০ শতাংশ পরিবেশ ধ্বংস হবে শুধুই বাংলাদেশের’, যোগ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সুন্দরবনের এত কাছে পশুর নদীর তীরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হবে এবং তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে সুদূরপ্রসারী। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য বলে ঘোষিত সুন্দরবন। এই বনের বিরল প্রজাতির পশুপাখি, বনের ভেতর ও আশপাশ দিয়ে বয়ে চলা নদী ও খালের মৎস্য সম্পদ ও বিপুল বনজ সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার যে আশঙ্কা বিজ্ঞানীরা করেছেন, তার প্রমাণ অসংখ্য।’

খালেদা জিয়া বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এবং মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ৫৬৫ মেগাওয়াটের কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। দেশ-বিদেশের পরিবেশবিদ, সামাজিক সংগঠন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রকল্পের মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দৃষ্টান্ত উপেক্ষা করে গণবিরোধী অনির্বাচিত সরকার রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের আরো একটি কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে জমি ভরাটের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। জনগণের ওপর জবরদস্তিমূলকভাবে এসব চাপিয়ে দিচ্ছে সরকার। দেশের স্বার্থ বিকিয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারের এ অপচেষ্টা রোধ করা সময়ের দাবি।

খালেদা জিয়া এ প্রকল্প বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, খালেদা জিয়াকে জনবিচ্ছিন্ন নেত্রী আখ্যা দিয়ে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপি আস্তে আস্তে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাঁরা এখন নিজেদের বাঁচানোর জন্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন বলেই আজকে হঠাৎ করেই এই রামপাল ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, জনগণের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার এই বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা এই ধরনের খড়কুটো নিয়ে আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টা সফল হবে না।’

কেবল আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনই নয়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতাকারীদের আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে রাজধানীতে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “রামপালের অর্থই বোঝে না এরা কেউ। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সুন্দরবন রক্ষা করে পরিবেশ রক্ষা আমি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই ব্যবস্থা করেছি’। যুক্তির টাইমে তারা কেউ নাই। আজকে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমরা আন্দোলন শুরু করলাম।’ আন্দোলন তো অনেক দেখলাম। ওনার আন্দোলনের কথা শুনলেই দেশের মানুষ মনে করে, আবার আগুন জ্বালানো হবে। আবার হরতালের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হবে।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের স্বার্থকে বিলিয়ে দিয়ে আমরা কোনো প্রকল্প এ যাবত গ্রহণ করি নাই। রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্পও দেশের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাবিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিপক্ষে শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছে দেশের বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠন। তাদের দাবি, এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষয়ক্ষতি ন্যুনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত